“আমি মামলা করেছিলাম বলেই ৩২ লাখ মানুষের নাম উঠেছে!” ভোটার তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি মমতার!

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েই হুঙ্কার ছাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, এই লড়াই তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবেন।

৩২ লাখ বনাম ২৮ লাখের অঙ্ক: সোমবার মাঝরাতে নির্বাচন কমিশন সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিচারাধীন ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে মাত্র ৩২ লক্ষকে ‘যোগ্য’ ভোটার বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই পরিসংখ্যান ঘিরেই রণংদেহি মেজাজে মমতা। তাঁর দাবি, “আমি সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়েছিলাম বলেই এই ৩২ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় উঠেছে, নাহলে এদেরও বাদ দিয়ে দেওয়া হতো।”

সুপ্রিম কোর্টে ফের মামলার হুঁশিয়ারি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এখনও প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটার ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন— সুপ্রিম কোর্ট যেখানে তাঁদের প্রকৃত ভোটার হিসেবে মান্যতা দিয়েছে, সেখানে কমিশন কেন তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে টালবাহানা করছে? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যথিত, কারণ অসংখ্য মানুষের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার মানে কী? আমরা ফের আইনি ব্যবস্থা নেব।”

মোদিকে তীব্র আক্রমণ: এদিন শুধু কমিশন নয়, সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেউ নিশানা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আরামবাগের জনসভা থেকে তিনি গর্জে উঠে বলেন, “বাংলাকে যখন পাকিস্তান দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়, তখন মোদিবাবু কেন মুখে লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে বসে থাকেন?” প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বুঝিয়ে দিলেন, ২০২৬-এর লড়াই কেবল বিধানসভার নয়, এটি তাঁর অস্তিত্বের লড়াই।

কেন এই সংঘাত?

  • কমিশনের দাবি, মৃত ও ভুয়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

  • মমতার দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চেষ্টা।

নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার এই ‘বিসংগতি’ কি ভোটের ফলে বড় প্রভাব ফেলবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য।