বুকিং করেও মিলছে না গ্যাস, ২,০০০ টাকা দিলেই সিলিন্ডার হাজির! রান্নার গ্যাস নিয়ে বাংলায় একি কাণ্ড?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মেঘ কাটতে শুরু করেছে, ইরান থেকে জাহাজও আসছে—কিন্তু বাংলার হেঁশেলে এখনও জ্বলছে না আগুন। একদিকে রান্নার গ্যাসের (LPG) হাহাকার, অন্যদিকে খোলা বাজারে ২,০০০ টাকা ফেললেই মিলছে সিলিন্ডার। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগকে কেন্দ্র করে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জলপাইগুড়ি।
সরকারিতে ‘নো’, কালোবাজারে ‘ইয়েস’: জলপাইগুড়ি ডিস্ট্রিক্ট কনজিউমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের অফিসে এদিন আছড়ে পড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে বুকিং করার পর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সিলিন্ডার আসছে না। অথচ ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা দিলে অন্ধকার পথে অনায়াসেই মিলছে গ্যাস। গ্রাহকদের প্রশ্ন— সরবরাহ নেই বললে খোলা বাজারে গ্যাস আসছে কোথা থেকে?
কাঠগড়ায় শাসক দলের কাউন্সিলর: এই ভয়াবহ কালোবাজারির নেপথ্যে রাজনীতির রং দেখছেন শহরবাসী। অভিযোগের আঙুল উঠেছে সরবরাহকারী সংস্থারই এক কর্মী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের দিকে। শহরের অলিতে-গলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গ্যাস পাচারের কথা। যদিও সংস্থা দাবি করছে চাহিদার তুলনায় জোগান কম, কিন্তু পথ অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়েছেন, এটি কৃত্রিম সংকট এবং এর পেছনে রয়েছে বড়সড় দুর্নীতি।
হাওড়াতেও একই ছবি: কেবল উত্তরবঙ্গ নয়, দক্ষিণবঙ্গের হাওড়াতেও একই হাহাকার। বাণিজ্যিক সিলিন্ডার থেকে ঘরোয়া গ্যাস—সবই এখন কালোবাজারিদের কবজায়। স্থানীয় এক রেস্তোরাঁ মালিকের ক্ষোভ, “করোনার সময় যেমন চালের মজুতদাররা লাভ করেছিল, এখন রান্নার গ্যাসের ডিলাররা ঠিক তেমনই ফায়দা লুটছে।” ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটররা যোগসাজশ করে মজুতদারি করছে বলে তাঁর অভিযোগ।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন: ইরান থেকে গ্যাস আসা শুরু হলেও সাধারণ গ্রাহকদের কপালে কেন শান্তি নেই, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।