পরমাণু শক্তিতে ভারতের ‘মহা-বিস্ফোরণ’! কালপাক্কমে ঐতিহাসিক সাফল্য, চিরতরে ঘুচবে বিদ্যুৎ সংকট?

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ইতিহাসে আজ এক সোনালি দিন। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষা ও গবেষণার পর তামিলনাড়ুর কালপাক্কমে অবস্থিত দেশের প্রথম প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর (PFBR) সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করল। মঙ্গলবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঐতিহাসিক অর্জনের কথা ঘোষণা করে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

কেন এই সাফল্য এত গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পরমাণু চুল্লির এই সাফল্য দেশের জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে এক বিরাট পদক্ষেপ।

বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ কী? সহজ কথায়, ক্রিটিক্যালিটি হলো সেই পর্যায় যখন একটি পরমাণু চুল্লি বাইরের কোনো সাহায্য ছাড়াই নিজে থেকে পরমাণু বিভাজন বা ‘নিউক্লিয়ার ফিজন চেইন রিয়্যাকশন’ চালু রাখতে পারে। অর্থাৎ, এই চুল্লিটি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিতভাবে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে সক্ষম এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ।

এক নজরে কালপাক্কম প্রজেক্ট:

  • উৎপাদন ক্ষমতা: এই চুল্লি থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

  • পরিচালনা: ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চ (IGCAR)-এর অধীনে ‘ভাবিনী’ (BHAVINI) এই কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে।

  • বিস্ময়কর প্রযুক্তি: এটি একটি সোডিয়াম-কুলড ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর, যা ভারতের পরমাণু গবেষণার ইতিহাসে অন্যতম জটিল চ্যালেঞ্জ ছিল।

ভারতের গর্বের মুহূর্ত: পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ অজিত কুমার মোহন্তি জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার পরিকল্পিত ভারতের ত্রিমাত্রিক পরমাণু কর্মসূচির তৃতীয় স্তরে প্রবেশ করল দেশ। যদিও এখনই এই চুল্লি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হচ্ছে না, তবে এটি চালু হওয়ার আগে সবথেকে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।