সারদা মামলায় বড় মোড়! সুদীপ্ত সেনের জামিনের পর বিস্ফোরণ কুণাল ঘোষের, কাকে নিশানা করলেন তৃণমূল নেতা?

সারদা অর্থলগ্নি কেলেঙ্কারির ১৩ বছর পর অবশেষে কারামুক্ত হতে চলেছেন সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর শেষ দুটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে। আর সুদীপ্ত সেনের এই জামিন পাওয়ার খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা তথা সারদা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত (বর্তমানে জামিনে মুক্ত) কুণাল ঘোষ।
হাইকোর্টের নির্দেশ ও সুদীপ্ত সেনের মুক্তি
সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০টি ফৌজদারি মামলা ছিল। একের পর এক মামলায় তিনি আগেই জামিন পেয়েছিলেন। বুধবার বারাসত থানার অধীনে থাকা শেষ দুটি মামলায় ৫,০০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন বিচারপতিরা। শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, তিনি বাংলার বাইরে যেতে পারবেন না এবং কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। ২০১৩ সালে কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর দীর্ঘ ১৩ বছর তিনি জেলবন্দি ছিলেন।
কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া
সুদীপ্ত সেনের জামিনের খবর শুনে কুণাল ঘোষ যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কুণাল বলেন:
“সুদীপ্ত সেন বাইরে আসুক, এটাই আমি চেয়েছিলাম। ও বাইরে এলে অনেক না বলা সত্য সামনে আসবে। কারা ওঁর কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে, কারা ওঁকে ব্ল্যাকমেল করেছে—সেই সব প্রভাবশালীদের মুখোশ এবার খোলার সময় এসেছে।”
কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সুদীপ্ত সেন জেল থেকে বেরিয়ে যদি মুখ খোলেন, তবে অনেক ‘হেভিওয়েট’ নেতার রাতের ঘুম উড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সারদা থেকে টাকা নিয়েছেন বলে কুণাল বরাবর দাবি করে আসছেন, তাঁদের দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা
বিরোধীদের দাবি, ভোটের মুখে সুদীপ্ত সেনের মুক্তি এবং কুণালের এই মন্তব্য স্রেফ রাজনৈতিক চিত্রনাট্য। বিজেপি ও বামেদের মতে, সিবিআই ও ইডি-র তদন্তে যাতে প্রভাব ফেলা যায়, সেই চেষ্টাই চলছে। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষের দাবি—সুদীপ্ত সেন একজন ভুক্তভোগী এবং প্রকৃত অপরাধীরা এখনও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সুদীপ্ত সেনের মুক্তি কি সারদা মামলার তদন্তে নতুন কোনও মোড় আনবে? নাকি কুণাল ঘোষের এই ‘বিস্ফোরক তথ্য’ কেবল রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? নজর থাকবে আগামী দিনে সুদীপ্ত সেনের বয়ানের ওপর।