ভোটের মুখেই কড়া দাওয়াই কমিশনের! অবজারভার বিতর্কে মেজাজ হারালেন তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ, শোরগোল ময়দানে

নির্বাচনের ঠিক মুখেই বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের জেনারেল অবজারভারকে। আর কমিশনের এই সিদ্ধান্তের খবর চাউর হতেই চরম ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ কেবল নিরপেক্ষতা নষ্ট করার চেষ্টা নয়, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে বিরোধী শিবিরের গভীর চক্রান্ত।

কেন সরলেন অবজারভার?

কমিশন সূত্রে খবর, প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই তাৎক্ষণিক রদবদল। তবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নাকি রুটিনমাফিক এই বদল—তা নিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, এই ধরনের বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রার্থীর নির্বাচনী রণকৌশলে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভিজিতের বিস্ফোরক অভিযোগ

জেনারেল অবজারভার অপসারণের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের সামনে রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দেন তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর বক্তব্য:

  • “পেশী শক্তির আস্ফালন”: অভিজিতের দাবি, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনেই দিল্লিকে ব্যবহার করে আধিকারিকদের ওপর চাপ তৈরি করছে।

  • পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: নিরপেক্ষভাবে কাজ করা আধিকারিকদের সরিয়ে দিয়ে কমিশন কি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সুবিধা করে দিতে চাইছে? প্রশ্ন তুলছেন তিনি।

  • কমিশনে নালিশ: এই অপসারণের প্রতিবাদে তৃণমূলের তরফে উচ্চপর্যায়ে নালিশ জানানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

বিরোধীদের পাল্টা কটাক্ষ

অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, কমিশনের কোনো পদক্ষেপে তৃণমূলের এত গাত্রদাহ কেন? যদি স্বচ্ছভাবে লড়াই করার মানসিকতা থাকে, তবে কে অবজারভার থাকল আর কে গেল, তাতে কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়। আসলে পরাজয়ের আশঙ্কায় এখন থেকেই অজুহাত খুঁজছে ঘাসফুল শিবির।

ভোটের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, তখন এই ‘অবজারভার বিতর্ক’ যে আইনি ও রাজনৈতিক যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের জেরে ভোটযুদ্ধে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হয় কি না।