আম্বানি আউট, টাটা ইন! রাফায়েল প্রকল্পে বড় ধাক্কা অনিল আম্বানির, নতুন পার্টনার খুঁজছে ফরাসি সংস্থা

ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত ও চর্চিত ‘রাফায়েল চুক্তি’ নিয়ে আবারও বড় খবর সামনে আসছে। ফরাসি যুদ্ধবিমান নির্মাতা সংস্থা দাসোঁ অ্যাভিয়েশন (Dassault Aviation) অনিল আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্সের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের যৌথ উদ্যোগ DRAL (Dassault Reliance Aerospace Limited) পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। সূত্রের খবর, এই প্রকল্প থেকে রিলায়েন্সের সরে যাওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
কেন বাদ পড়ছেন অনিল আম্বানি?
কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মহল সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, রিলায়েন্স অ্যারোস্ট্রাকচারের আর্থিক সংকট এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি সংস্থাটি। রিলায়েন্সের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগের আওতায় বর্তমানে নাগপুরের মিহান প্ল্যান্টে ফ্যালকন জেট এবং রাফায়েলের কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছিল। তবে চুক্তির ‘অফসেট’ বাধ্যবাধকতা পূরণে রিলায়েন্সের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় দাসোঁ এখন নতুন পার্টনারের সন্ধানে।
টাটাদের সঙ্গে নতুন সমীকরণ?
২০২৬-এর এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজারে সবচেয়ে বড় নাম হয়ে উঠেছে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস (Tata Advanced Systems)। খবর ছড়িয়েছে যে, দাসোঁ অ্যাভিয়েশন ইতিমধ্যে টাটা গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে টাটাদের সঙ্গে সি-২৯৫ বিমানের ডানা তৈরির কাজ সফলভাবে শুরু করায়, রাফায়েলের বাকি যন্ত্রাংশ এবং ভবিষ্যৎ বিমান তৈরির বরাত টাটাদের দিকেই ঝুঁকতে পারে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ কী?
ভারতের হাতে ইতিমধ্যেই ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান চলে এসেছে। তবে বায়ুসেনার জন্য আরও ১১৪টি বহুমুখী যুদ্ধবিমান (MRFA) ক্রয়ের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে দেশীয় অংশীদার হিসেবে রিলায়েন্সের বদলে আরও শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য কোনো সংস্থাকে চাইছে কেন্দ্র ও দাসোঁ—উভয় পক্ষই।
আম্বানির সংস্থার বিদায় কি তবে রাফায়েল বিতর্কে নতুন কোনো অধ্যায় যোগ করবে? নাকি টাটাদের হাত ধরে ভারতে যুদ্ধবিমান তৈরির প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে? এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।