তৃণমূলের হ্যাটট্রিক না কি পরিবর্তন? মনোনয়ন পেশের পর আত্মবিশ্বাসী মমতা, ২০২৬-এর লড়াই নিয়ে বড় ঘোষণা!

২০২৬-এর মহাযুদ্ধে জয়ের বিষয়ে তিনি যে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত, মনোনয়ন পেশের দিনই তা বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসী মেজাজে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, “জনগণ আমাদের সঙ্গেই আছেন, সরকার আবারও আমরাই গড়ব।”

মনোনয়ন পেশে জনপ্লাবন

এদিন বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে মনোনয়ন পেশ করতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তার দু’ধারে জমা হওয়া হাজার হাজার মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে রীতিমতো গদগদ নেত্রী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মনোনয়নের দিন এই শক্তিপ্রদর্শন বিরোধীদের কাছে এক কড়া বার্তা। দিদি বুঝিয়ে দিলেন, গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক টানাপড়েন তাঁর জনভিত্তিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

বিরোধীদের তোপ

বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস জোটকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন:

  • “কুৎসার রাজনীতিতে লাভ নেই”: তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখিয়ে বা কুৎসা রটিয়ে তৃণমূলকে আটকানো যাবে না।

  • উন্নয়নই হাতিয়ার: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সাফল্যই তাঁকে তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরাবে বলে দাবি করেন তিনি।

  • পরিবর্তনের স্বপ্ন বৃথা: বিরোধীরা বাংলায় পরিবর্তনের যে ডাক দিচ্ছে, তাকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নেত্রী।

রণকৌশলে বদল?

এবারের মনোনয়নের পর মমতার শরীরী ভাষা এবং বক্তব্যের সুর বলছে, তৃণমূল এবার আরও বেশি আক্রমণাত্মক। একদিকে যখন দুর্নীতি ইস্যুতে বিজেপি সুর চড়াচ্ছে, তখন মমতা উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে সরাসরি মানুষের দরবারে পৌঁছে যাচ্ছেন। তাঁর এই ‘সরকার আমরাই গড়ব’—হুঙ্কার তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অক্সিজেন জুগিয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, আগামী ৪ মে যখন ভোটের বাক্স খুলবে, তখন মমতার এই ভবিষ্যদ্বাণী কি অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাবে? না কি বাংলা নতুন কোনো সমীকরণ দেখবে? নজর থাকবে ডেইলিয়ান্ট-এর পাতায়।