‘মাথা খাবে নাকি? বিজেপি এলে মাছ-মাংস-ডিম বন্ধ!’ আরামবাগে বিস্ফোরক মমতা

বুধবার হুগলি জেলাজুড়ে ঝোড়ো প্রচার সারলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরামবাগ ও বলাগড়ের জোড়া জনসভা থেকে একদিকে যেমন বিজেপিকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানালেন, তেমনই নির্বাচন কমিশনকেও তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং এনআরসি আতঙ্ক নিয়ে এদিন কার্যত রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তিনি।
আরামবাগের সভা থেকে মমতা প্রশ্ন তোলেন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, “মানুষ যদি ভোটই দিতে না পারে, তবে ট্রাইবুনালের দরকার কী? কেন ট্রাইবুনাল তৈরি করেছিলেন? আবার বলছেন ফ্রোজেন করে দিলাম! আমরা একে চ্যালেঞ্জ করব। মানুষের নাম তোলার অধিকার আছে এবং আমাদেরও জানার অধিকার আছে কেন নাম বাদ গেল।” ভোটার তালিকায় কারচুপির নেপথ্যে এনআরসির নীল নকশা দেখছেন নেত্রী। তাঁর সাফ কথা, “মনে রাখবেন, নাম বাদ দেওয়ার আড়ালে আসলে এনআরসি করার ছক্কা চলছে। কিন্তু আমি থাকতে সেই ছক্কাকে অক্কা করে দেব।”
এদিন বিজেপির খাদ্যাভ্যাস এবং বুলডোজার নীতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন মমতা। বাঙালি সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শুনলেও হাসি পায়, এই বাংলাবিরোধীরা বাংলায় ভোট চায়! ওদের রাজ্যে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া বন্ধ। বাঙালি মাছে-ভাতে থাকে। বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হওয়া, বাংলা ভাষায় কথা বলা বন্ধ হওয়া। মনে রাখবেন, ওরা প্রথমে হাজার টাকা দেবে, আর তারপরই চালাবে বুলডোজার।”
তৃণমূল যা কথা দেয় তা রাখে— এই দাবি করে মমতা ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের অস্তিত্ব, ভাষা আর ঠিকানা রক্ষা করতে হলে ঘাসফুল শিবিরকেই বেছে নিতে হবে। ভবানীপুরে মনোনয় জমা দেওয়ার পর এদিন হুগলির জনসভায় মমতার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বুঝিয়ে দিল, নির্বাচনী লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাজি নন তিনি।