‘রাস্তা কই?’ প্রার্থীকে সামনে পেয়েই রণক্ষেত্র হাড়োয়া! তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ঝরল রক্ত, আহত ৩

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবের লড়াই এবার রণক্ষেত্রের রূপ নিল উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রে। মঙ্গলবার রাতে হাড়োয়ার তৃণমূল প্রার্থী মুফতি আব্দুল মাতিনের নির্বাচনী সভাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল ঘাসফুল শিবিরেরই দুই গোষ্ঠী। ঘটনায় অন্তত তিনজন তৃণমূল কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রুটমার্চ করতে হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত হাড়োয়ার হাদিপুর-ঝিকড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের উত্তর আব্দানগর এলাকায়। তৃণমূল প্রার্থী মুফতি আব্দুল মাতিনের সমর্থনে সেখানে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, মঞ্চে তখন প্রার্থী স্বয়ং উপস্থিত। ঠিক সেই সময় একদল তৃণমূল কর্মী দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন করেন, গত উপ-নির্বাচনের আগে যে কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও হয়নি কেন? এই ‘অপ্রিয়’ প্রশ্ন ঘিরেই বচসার সূত্রপাত।

মুহূর্তের মধ্যে সেই কথা কাটাকাটি হাতাহাতির রূপ নেয়। শুরু হয় ব্যাপক চেয়ার ছোড়াছুড়ি। অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীন ধারালো অস্ত্র ও তলোয়ারও ব্যবহার করা হয়েছে। দলীয় কর্মীদের মধ্যে এই নজিরবিহীন সংঘর্ষ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রার্থী মুফতি আব্দুল মাতিন তড়িঘড়ি সভা ছেড়ে চলে যান। খবর পেয়ে দেগঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উন্মত্ত জনতাকে শান্ত করা সম্ভব হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের সহ-সভাপতি কাসেম আলির কটাক্ষ, “এটা তো তৃণমূলের শেষের শুরু। কাটমানি আর সিন্ডিকেটের ভাগের লড়াই এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ছে। হাড়োয়ার মানুষ বুঝে গেছেন উন্নয়নের নাম করে তৃণমূল শুধু ভাঁওতা দেয়।” যদিও প্রার্থী মুফতি আব্দুল মাতিন বা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি। বর্তমানে উত্তর আব্দানগর এলাকা থমথমে, চলছে পুলিশের কড়া টহল।