মৃত্যুফাঁদ থেকে মুক্তি! ৩ দিন পর লাচেনে আটকে পড়া ৭০০ পর্যটককে উদ্ধারে নামল ভারতীয় সেনা!

প্রকৃতির তাণ্ডবে গত কয়েকদিন ধরে নরককুণ্ড হয়ে উঠেছিল উত্তর সিকিমের লাচেন। গত তিনদিন ধরে কার্যত বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন অন্তত ৭০০ পর্যটক। ১৩০টিরও বেশি পর্যটকবাহী গাড়ি ভূমিধসের জেরে আটকে পড়েছিল পাহাড়ি খাঁজে। অবশেষে বুধবার সকাল থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের (BRO) যৌথ প্রচেষ্টায় শুরু হয়েছে মেগা উদ্ধার অভিযান।
বাঁশের সেতুই হয়ে উঠল ‘লাইফলাইন’
ভূমিধসের ফলে মূল রাস্তা ধসে যাওয়ায় পর্যটকদের বের করে আনা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে ডংক্যা লা পাস ব্যবহার করে উদ্ধারকাজের পরিকল্পনা থাকলেও ভারী তুষারপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তা বাতিল করতে হয়। বিকল্প হিসেবে তারুম অঞ্চলে একটি অস্থায়ী বাঁশের ফুটব্রিজ নির্মাণ করে প্রশাসন। পর্যটকদের জীবন হাতে নিয়ে ওই অস্থায়ী সেতু পার করিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সেতুর নিরাপত্তা যাচাই করেন।
সেনা ও বিআরও-র মরণপণ লড়াই
উদ্ধারকাজে সবথেকে বড় ভূমিকা নিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিআরও। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও তাঁরা ডংক্যা লা রুট আংশিকভাবে পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে ডংক্যা লা শিব মন্দির, জিরো পয়েন্ট এবং ইয়ুমথাং হয়ে লাচুং-এর পথে পর্যটকদের ধাপে ধাপে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হোটেল মালিক এবং স্থানীয় ‘লাচেন দজুমসা’ সংগঠনের সদস্যরাও পর্যটকদের খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে মানবিকতার নজির গড়েছেন।
প্রশাসনের বার্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি
মঙ্গন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া সমস্ত পর্যটক সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন। ট্যুর অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন পর্যটকদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। জেলাশাসক জানিয়েছেন, “আবহাওয়া যদি সহায় থাকে, তবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাচেনে আটকে থাকা প্রত্যেক পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে।” বর্তমানে উদ্ধারকাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে।