ভবানীপুরে জনসমুদ্র! পায়ে হেঁটেই মনোনয়ন জমা মমতার, জয়ের হ্যাটট্রিক কি সময়ের অপেক্ষা?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে আবারও হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। আর বুধবার সেই কেন্দ্র থেকেই নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলনেত্রীর কালীঘাটের বাড়ি থেকে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য মিছিল কার্যত এক বিশাল রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অগুনতি মানুষের ভালোবাসা আর স্লোগানের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য এই মিছিলে পা মেলান খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
পায়ে হেঁটে মনোনয়ন: জনজোয়ারে ভাসল আলিপুর
বুধবার সকাল ঠিক পৌনে ১১টা নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে বের হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ থাকলেও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বজায় রেখে পায়ে হেঁটেই আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে রওনা হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন ও কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্ষীয়ান নেতা সন্দীপ বক্সী। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদযাত্রা ঘিরে এদিন গোটা এলাকা ছিল কার্যত উৎসবমুখর।
নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ ও সুপ্রিম কোর্টের ইঙ্গিত
মনোনয়ন পর্ব শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলেন, “আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ, বিশেষ করে ভবানীপুরের মানুষকে। আমি আমার নমিনেশন ফাইল করলাম। বাংলার ২৯৪টি কেন্দ্রেই তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার জন্য আমি মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। এটুকু নিশ্চিত থাকুন, সরকার আমরাই গড়ব। উন্নয়ন চলছে, চলবে।”
একইসঙ্গে ভোটাধিকার নিয়ে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ভোটার তালিকা থেকে অনেক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার মতে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার রয়েছে। যারা অ্যাডজুডিকেশনে আছে, তাদের ভোটাধিকারের দাবিতে আমরা আবারও আদালতের দ্বারস্থ হব। এটা সুপ্রিম কোর্টেরই অর্ডার ছিল।”
ভবানীপুরে ‘ঘরের মেয়ে’ স্লোগান
গত তিনবারের পরিসংখ্যান বলছে, ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই অপরাজেয়। এবারও তাঁর জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রধান স্লোগান— ‘উন্নয়ন আজ ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’। রাজ্যজুড়ে প্রার্থীদের সমর্থনে ঝোড়ো প্রচার চালালেও, নিজের ঘরের কেন্দ্রে এসে দিদি প্রমাণ করে দিলেন যে ভবানীপুরের মাটি তাঁর কাছে কতটা আবেগঘন। এখন দেখার, ছাব্বিশের লড়াইয়ে ভবানীপুর দিদিকে কতটা রেকর্ড মার্জিনে জয় উপহার দেয়।