নৃশংসতার চরম সীমা! হাত-পা বেঁধে লখনউতে নাবালিকাকে গণধর্ষণ, ৫ জন অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে দিল জনতা

উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আসিয়ানা থানা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে ঘটে গেল এক শিউরে ওঠা ঘটনা। ঝোড়ো হাওয়া আর বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেওয়াই কাল হলো ১৩ বছরের এক নাবালিকার। এক পরিচিত কিশোর এবং তার চার বন্ধু মিলে ওই নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভয়াবহতায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচ অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ:
নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবার আদতে কনৌজ জেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে আসিয়ানায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। কিশোরীর বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং মা পরিচারিকার কাজ করেন। মঙ্গলবার মায়ের শরীর খারাপ থাকায় তাঁর বদলে কাজে গিয়েছিল ওই কিশোরী। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ কাজ সেরে ফেরার পথে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে সে একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে আশ্রয় নেয়। অভিযোগ, সেখানেই ওত পেতে থাকা ১৭ বছর বয়সী এক পরিচিত কিশোর তার চার সঙ্গীকে নিয়ে চড়াও হয়। নাবালিকার হাত-পা বেঁধে, মারধর করে তারা পৈশাচিক অত্যাচার চালায়।

উদ্ধার ও গ্রেপ্তার:
রাত বাড়লেও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খুঁজতে বের হন। নির্মীয়মাণ বাড়ির ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে তাঁরা ভেতরে ঢুকে দেখেন, মেয়েটি অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে এবং তার হাত-পা বাঁধা। পরিবারের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পালানোর চেষ্টায় দুই অভিযুক্ত ছাদ থেকে ঝাঁপ দেয় এবং জখম হয়। জনতা পাঁচজনকেই ঘিরে ধরে ধরে ফেলে এবং পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশি পদক্ষেপ:
ডিপিসি (সেন্ট্রাল) বিক্রান্ত বীর জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাঁচ অভিযুক্তই নাবালক, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নির্যাতিতা বর্তমানে লোকবন্ধু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, পরিচিত সেই কিশোরই প্রথমে এই কুকর্ম শুরু করে এবং বাকিরা তাকে সাহায্য করে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।