পয়লা বৈশাখে বাঙালির পাতে কি তবে পদ্মার ইলিশ? সুখবর শোনালেন তারেক রহমান!

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর সেই উৎসবের তালিকায় শীর্ষে থাকে ‘পয়লা বৈশাখ’। নতুন জামা, হালখাতা আর কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া ছাড়া বাঙালির নববর্ষ যেন ভাবাই যায় না। আর মেনুতে যদি থাকে ‘মাছের রাজা’ ইলিশ, তবে তো সোনায় সোহাগা! চলতি বছরে পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গের ভোজনরসিকদের জন্য সেই স্বপ্নই সত্যি হতে চলেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে আবারও ওপার বাংলার পদ্মার ইলিশে পাত সাজানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

হাসিনা থেকে তারেক: ইলিশ-কূটনীতির নয়া মোড় বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। হাসিন জমানায় পুজোর সময় ইলিশ পাঠানোর যে ঐতিহ্য ছিল, তা তারেক সরকার বজায় রাখবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। তবে বর্তমান পরিস্থিতির ইঙ্গিত বলছে, দুই দেশের শীতল সম্পর্কে উষ্ণতা ফেরাতে ‘ইলিশ-কূটনীতি’ বড় অস্ত্র হতে পারে। ভারতের হাই কমিশনার প্রণয়কুমার বর্মার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠক এবং বাংলাদেশে ডিজেল আমদানির আলোচনার পর সৌজন্যের পাল্টা হিসেবে ইলিশ রফতানির পথ প্রশস্ত হয়েছে।

কী বললেন বাংলাদেশের মৎস্যমন্ত্রী? ভারতে ইলিশ পাঠানো প্রসঙ্গে বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সরকার বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ রফতানি করে না ঠিকই, তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে উৎসবের আবহে ‘উপহার’ হিসেবে ইলিশ পাঠানোর রেওয়াজ রয়েছে। এবারের পয়লা বৈশাখে ভারতের অনুরোধে সাড়া দিয়ে পদ্মার ইলিশ ওপাড়ে পাঠানো হবে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রীর এই মন্তব্যে আশার আলো দেখছেন মৎস্য আমদানিকারকরা।

দিল্লিতে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী মঙ্গলবারই তিন দিনের ভারত সফরে নয়াদিল্লি আসছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সঙ্গে থাকছেন তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। কূটনীতিকদের মতে, এই সফরেই সিলমোহর পড়তে পারে ইলিশ রফতানির সিদ্ধান্তে। যদি সব ঠিক থাকে, তবে পয়লা বৈশাখের সকালেই কলকাতার বাজারে রুপোলি শস্যের দেখা মিলতে পারে।