“জ্বালানি সঙ্কট মেটাতে ভারতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’!”-ইরান-রাশিয়া ছেড়ে এবার কোন দেশ থেকে আসছে কোটি কোটি ব্যারেল তেল?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও জ্বালানি নিয়ে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি আদৌ স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান কূটনীতিবিদরা। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে তেলের জোগান নিশ্চিত করতে এবার বিকল্প পথের সন্ধানে ভারত। রাশিয়া ও ইরানের পাশাপাশি ভারতের বিশেষ নজর এখন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার দিকে।

ভেনেজুয়েলা থেকে আসছে তেলের পাহাড়: কমোডিটি অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘কেকলার’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি মাসেই ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ভারতের বন্দরে এসে পৌঁছাতে চলেছে। ভারতের শক্তি আমদানির ইতিহাসে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে সীমাবদ্ধতা থাকলেও, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সেই বাধা কাটিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে দিল্লি।

তেল সস্তা হলেও কি পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমবে? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেন্ট ক্রুড বা ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের তুলনায় ভেনেজুয়েলার তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০ থেকে ২০ ডলার কম। তবে সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসংবাদ হলো, এই তেল অত্যন্ত ভারী ও অপরিষ্কার। এটি রিফাইন বা পরিশোধন করতে খরচ অনেক বেশি পড়ে। ফলে তেলের বেস প্রাইস কম হলেও আমদানির পর তা ভারতের বাজারে প্রচলিত দামের কাছাকাছিই পৌঁছে যায়। তাই ভেনেজুয়েলার তেল এলেই যে তেলের দাম একধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে, এমনটা ভাবা ভুল হবে।

হরমুজ প্রণালী ও স্থিতিশীল বাজার: ভারতের জ্বালানি আমদানির লাইফলাইন হলো হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধের কারণে এই পথটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় দেশীয় বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির জেরে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলে বাজারে অস্থিরতা কমবে এবং জ্বালানির দাম স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এখনই দাম কমানোর কোনো ইঙ্গিত না দিলেও, নতুন এই সোর্সগুলো ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।