“ভিআইপি রাউডি”দের কপালে দুঃখ! ভোটের আগে ৯০ লক্ষ নাম ছেঁটে ‘সেঞ্চুরি’ করার পথে কমিশন, কাঁপছে বাংলা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার আর কোনো রকম আপস নয়! সোমবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্য পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। অশান্তি রুখতে কমিশনের নিশানায় এবার তথাকথিত ‘ভিআইপি রাউডি’ বা প্রভাবশালী দুষ্কৃতীরা। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ৯১ তেই শেষ নয়, অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে এবার সেঞ্চুরি হাঁকাবে কমিশন!
থানায় থানায় ‘১০ জনের টার্গেট’
ভোটের সময় পর্দার আড়াল থেকে যারা কলকাঠি নাড়েন, ভোটারদের ভয় দেখান কিংবা বুথ দখলের ছক কষেন—সেই সব ‘ভিআইপি রাউডি’দের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
-
নির্দেশ: প্রতিটি থানার আওতায় অন্তত ১০ জন করে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে হবে।
-
নজরদারি: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এই ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হবে।
-
অ্যাকশন: প্রয়োজনে ভোটের আগেই এদের গ্রেপ্তার বা আইনিভাবে বেঁধে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকায় বিরাট ‘সার্জারি’
ভোটার তালিকা নিয়েও বড়সড় তথ্য সামনে এনেছে কমিশন। এবার প্রথমবারের মতো ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের একটি খতিয়ান দেওয়া হয়েছে:
-
যাচাই: প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে স্ক্রুটিনির আওতায় আনা হয়েছিল।
-
যোগ্য বনাম অযোগ্য: এর মধ্যে ৩২ লক্ষ ভোটারকে বৈধ বলা হলেও, প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
-
বিশাল বাদ: চূড়ান্ত এবং সাপ্লিমেন্টারি তালিকা মিলিয়ে মোট প্রায় ৯০ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল
এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে কমিশনের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। শুধুমাত্র সঠিক ও বৈধ ভোটাররাই যাতে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই বিরাট ‘ক্লিনিং অপারেশন’।
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি যে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।