“এদের গ্যারেজ করে দিতে হবে!” শুভেন্দুর কথায় উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম, ছাব্বিশের ভোটে কি তবে হিংসার ইঙ্গিত?

একুশের নির্বাচনে ‘বদল’ হয়েছিল, কিন্তু ‘বদলা’ নেওয়া যায়নি— এই আক্ষেপ মেটাতেই যেন ২০২৬-এর ময়দানে নামলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামের এক জনসভা থেকে সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শুভেন্দুর বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি: এদিন মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব ও ক্যাডারদের নিশানা করে বলেন—
“২০১১ সালে স্লোগান ছিল— বদল চাই, বদলা নয়। কিন্তু ২০২৬-এ আমাদের স্লোগান হবে— বদলও হবে এবং বদলাও হবে। গত পাঁচ বছর ধরে আমার কর্মীদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, চোর তৃণমূলের সেই অত্যাচারের প্রতি ইঞ্চি হিসাব এবার বুঝে নেওয়া হবে। এদের গ্যারেজ করে দেওয়ার সময় এসেছে।”
কেন হঠাৎ ‘বদলা’র ডাক? শুভেন্দুর দাবি, গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে লোকসভা ভোট পর্যন্ত বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর, মিথ্যা মামলা এবং ঘরছাড়া করার যে সংস্কৃতি তৃণমূল চালিয়েছে, তার উত্তর এবার গণতান্ত্রিকভাবেই ‘কড়া ভাষায়’ দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের চাঙ্গা করতেই শুভেন্দু এমন আগ্রাসী ভঙ্গি বেছে নিয়েছেন।
পবিত্র কর-কে পাল্টা তোপ: বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া এবং নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিপরীতে দাঁড়ানো পবিত্র কর-কেও এদিন রেয়াত করেননি শুভেন্দু। তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষ লোডশেডিংয়ের নাটক মনে রেখেছে, এবার ইভিএম-এ তার জবাব মিলবে।”
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: শুভেন্দুর এই ‘বদলা’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, “শুভেন্দু অধিকারী আসলে হার নিশ্চিত জেনে এলাকায় হিংসা ছড়ানোর উসকানি দিচ্ছেন। বাংলার মানুষ কোনোদিনও বদলার রাজনীতি পছন্দ করেনি, করবেও না।”
একনজরে আজকের হাইলাইটস:
-
স্থান: নন্দীগ্রাম (বয়াল ও সোনাচূড়া সংলগ্ন এলাকা)।
-
মূল বার্তা: তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘প্রতিশোধ’ ও ‘গ্যারেজ’ করার হুঁশিয়ারি।
-
রাজনৈতিক উত্তাপ: শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর নন্দীগ্রামের স্পর্শকাতর বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
ছাব্বিশের ভোটে নন্দীগ্রাম কি তবে ফের ২০১১-র মতো ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে? শুভেন্দুর এই ‘বদলা’র ডাক সেই প্রশ্নই উসকে দিল।