ইউটিউবার থেকে স্বাধীন সাংবাদিক—সবার ওপর এবার কড়া নজর! অনলাইন খবরে বড় সেন্সরশিপ আনছে কেন্দ্র?

আপনি কি ইউটিউবে খবর দেখেন? বা ফেসবুক-এক্স হ্যান্ডেলে স্বাধীন সাংবাদিকদের ফলো করেন? তবে সাবধান! অনলাইন সংবাদ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একগুচ্ছ নতুন নিয়ম আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি খসড়া সংশোধনীতে ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

কী আছে এই নতুন নিয়মে?

আইটি রুলস ২০২১-এর এই সংশোধনীতে মূলত চারটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে—ডেটা বা তথ্য সংরক্ষণ, কড়া নির্দেশিকা পালন, খবরের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং পরিকাঠামোগত উন্নতি।

  • আওতায় সবাই: এবার শুধু বড় নিউজ পোর্টাল নয়, অনিবন্ধিত ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ইউটিউব চ্যানেল এবং স্বাধীন সাংবাদিকদেরও এই নিয়মের আওতায় আনা হতে পারে।

  • ক্ষমতার বিন্যাস: খবর ব্লক করার চূড়ান্ত ক্ষমতা আইটি মন্ত্রকের (MeitY) কাছে থাকলেও, তদারকির দায়িত্ব আংশিকভাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের (I&B) হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সরকার বনাম বাকস্বাধীনতা?

এই প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই মনে করছেন, এটি ডিজিটাল মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সুমিত চক্রবর্তী স্পষ্ট করেছেন, “সরকারবিরোধী কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়া হবে—এই ধারণা ভুল।” সরকার সংবিধানের গণ্ডির মধ্যেই কাজ করবে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ম কার্যকর হলে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজারেও বড় প্রভাব পড়বে। কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ কঠোর হলে বিজ্ঞাপনদাতারা তাঁদের কৌশল বদলাতে পারেন, যার ফলে ছোট নিউজ প্ল্যাটফর্ম বা ইউটিউবারদের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

সময়সীমা খুবই কম!

এই খসড়া সংশোধনীর ওপর জনমত চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যেই সাধারণ মানুষ বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে তাঁদের মতামত জমা দিতে হবে। যদিও পরিস্থিতি বুঝে এই সময়সীমা কিছুটা বাড়তে পারে।

ভারতের ডিজিটাল সংবাদ জগতের স্বাধীনতা এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে কি না, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আপনার কি মনে হয়, অনলাইন খবরে এই নজরদারি জরুরি?