“কান্নায় ভেঙে পড়ে স্টুডিও ছাড়লেন শ্রীলেখা!”-দেব-শুভশ্রীদের সামনেই চরম অশান্তি, তুঙ্গে বিতর্ক

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে গত ২৯ মার্চ থেকেই শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। কিন্তু মঙ্গলবার সেই শোক বদলে গেল চরম অরাজকতা ও বিতর্কে। রাহুলের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা নিয়ে ডাকা জরুরি বৈঠকে মুখোমুখি সংঘাতে জড়ালেন শ্রীলেখা মিত্র ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কান্নায় ভেঙে পড়ে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান শ্রীলেখা।

স্তব্ধ টলিপাড়া, একছাদে সব তারকারা মঙ্গলবার সকাল থেকেই শ্যুটিং বন্ধ রেখে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল আর্টিস্ট ফোরাম। সকাল ১০টা থেকে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে হাজির হন প্রসেনজিৎ, দেব, শুভশ্রী, কোয়েল, যিশু সেনগুপ্ত ও প্রিয়াঙ্কা সরকারসহ ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির তারকারা। লক্ষ্য ছিল—নিরাপত্তার নতুন নিয়ম (SOP) তৈরি করা। কিন্তু আলোচনার মাঝপথেই ছন্দপতন ঘটে।

শ্রীলেখার বিস্ফোরক অভিযোগ ও বচসা বৈঠক চলাকালীনই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দেন শ্রীলেখা মিত্র। টলিপাড়ার সূত্রের খবর, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে আবারও স্বজনপোষণ ও মানসিক হেনস্থার অভিযোগ তোলেন তিনি। শ্রীলেখা চিৎকার করে বলতে থাকেন, “মানসিক অত্যাচার করেও মানুষকে মেরে ফেলা যায়।”

এই মন্তব্যে মেজাজ হারান উপস্থিত অনেক শিল্পীই। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও দৃশ্যত বিরক্ত হন। কৌশিক সেন সরাসরি শ্রীলেখার এই আচরণের বিরোধিতা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাহুলের প্রাক্তন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার হাতজোড় করে বলেন, “আমরা এখানে অন্য কারণে জড়ো হয়েছি। আমার ছোট সন্তানকে জানাতে হবে তার বাবার ঠিক কী হয়েছিল।” এরপরই হন্তদন্ত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে স্টুডিও ছাড়েন শ্রীলেখা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুধু বলেন, “আমাকে নিয়ে প্রবলেম হয়েছে।”

বৈঠকের বড় সিদ্ধান্তসমূহ: অশান্তি সত্ত্বেও টলিউড কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে:

  • কর্মবিরতি প্রত্যাহার: বুধবার থেকেই কাজে ফিরছেন টেকনিশিয়ান ও শিল্পীরা।

  • প্রযোজনা সংস্থার ওপর কোপ: আপাতত ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কোনো কাজ করবেন না শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

  • বীমা ও নিরাপত্তা: আগামী ১৫-৩০ দিনের মধ্যে নতুন এসওপি (SOP) তৈরি হবে। শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের জন্য বাধ্যতামূলক বীমা করা হবে। বীমা না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় শ্যুটিং নিষিদ্ধ।

রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টলিউডের ভেতরের ফাটল যেভাবে প্রকাশ্যে এল, তাতে ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।