আবারও অশান্ত উত্তর-পূর্ব! নাবালক খুনের অভিযোগে উত্তাল মণিপুর, পরিস্থিতি সামলাতে রাস্তায় সেনা

গত কয়েক মাস শান্ত থাকার পর ফের গোষ্ঠী সংঘর্ষের আগুনে পুড়ছে মণিপুর। দুই অপহৃত নাবালকের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিষ্ণুপুর জেলা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসন তড়িঘড়ি গোটা উপত্যকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে। গুজব রুখতে পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: সূত্রের খবর, নিখোঁজ হওয়া দুই নাবালকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা বিষ্ণুপুরের রাজপথে নেমে আসে। উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী। ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ: রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
-
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক বার্তা রুখতে ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা ৫ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
-
কারফিউ: বিষ্ণুপুর ও ইম্ফল সংলগ্ন এলাকায় ঘর থেকে বেরোনোর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
-
অতিরিক্ত বাহিনী: সংবেদনশীল এলাকায় টহল দিচ্ছে অসম রাইফেলস ও সিআরপিএফ।
মানবিক বিপর্যয় ও হাহাকার: দুই নাবালকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবেই বারবার প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এই ঘটনায় এন বিরেণ সিং-এর সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
একনজরে বর্তমান অবস্থা:
-
উত্তেজনা: বিষ্ণুপুর ও ইম্ফল পূর্ব-পশ্চিম সীমান্ত।
-
নিষেধাজ্ঞা: ৫ দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ, জারি ১৪৪ ধারা।
-
উদ্ধার: নিরাপত্তা বাহিনী আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে।
মণিপুরের আকাশে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ। সাধারণ মানুষের আর্তি এখন একটাই— রাজনৈতিক দলাদলি ভুলে অবিলম্বে শান্তি ফিরুক এই পাহাড়ি রাজ্যে।