“বালু আমার প্রিয়, ওকে হিংসায় ফাঁসানো হয়েছে!” হাবরা থেকে প্রাক্তন মন্ত্রীর হয়ে দরাজ সার্টিফিকেট মমতার

ভোটের মুখে জেলবন্দি সেনাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পাশেই যে তিনি শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছেন, তা আবারও বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার হাবরার নির্বাচনী জনসভা থেকে স্পষ্ট ভাষায় মমতা ঘোষণা করলেন, “বালু আমার প্রিয়, ওর নামে মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে।” রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডি-র হাতে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর হয়ে এদিন জনসমক্ষে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী।
“হিংসা থেকেই গ্রেফতারি, প্রমাণ মেলেনি”
হাবরার সভায় আবেগঘন মেজাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু তাঁর সরকারের অন্যতম সেরা কাজ করা মন্ত্রী। মমতার দাবি, “আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, সেটা কেউ করতে পারেনি। ওকে কেবল হিংসার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অনেক কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে, কিন্তু কোনও প্রমাণ পায়নি ওরা।” এদিন তিনি বালুকে তাঁর ‘পুরনো দিনের সঙ্গী’ এবং ‘অপরিহার্য’ বলেও উল্লেখ করেন।
রেশন চুরির দায় ফেরালেন সিপিএম-এর ঘাড়ে!
রেশন দুর্নীতি নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে মমতা কাঠগড়ায় তোলেন বাম আমলকে। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম জমানায় দেড় লক্ষেরও বেশি ভুয়ো রেশন কার্ড ছিল। তিনি দাবি করেন, “ওই পচা সিপিএম পার্টি আগে ভুয়ো নাম ঢুকিয়ে রেশন চুরি করত। বালুই সেই চুরি ধরেছিল এবং ডিজিটাল রেশন কার্ড চালু করেছিল। চুরির পথ বন্ধ করে দিয়েছিল বলেই ওকে মিথ্যে কেসে ফাঁসানো হয়েছে।”
বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসকে একই বন্ধনীতে
এদিনের সভা থেকে বিরোধী জোটকেও আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “আগে যারা সিপিএম করত, এখন তারাই বিজেপি করছে। কংগ্রেস, বিজেপি আর সিপিএম—তিনটিই এখন এক।” ভোটারদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, এলাকার উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখতে হলে বালুকেই জেতাতে হবে। তিনি কথা দেন, বালু জিতলে হাবড়ার সব উন্নয়নমূলক কাজ তাঁর সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে শেষ করবে।
রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি প্রার্থীর হয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এই দরাজ সার্টিফিকেট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যেমন তিনি দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে চাইলেন, অন্যদিকে রেশন দুর্নীতির দায়ভার কৌশলে বিরোধী শিবিরের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেন।