“পিশাচের সাজা চাই!” আলিপুরদুয়ারে নাবালিকাকে নিগ্রহের অভিযোগে আগুন জ্বলল সোনাপুরে, থমথমে উত্তরবঙ্গ

ফের এক নাবালিকাকে নিগ্রহের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গ। আলিপুরদুয়ারের সোনাপুর এলাকায় এক নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল তোফিজার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তকে কঠোর শাস্তির দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা, যা পরবর্তীকালে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় সূত্রে খবর, বাড়ির পাশে খেলছিল ওই নাবালিকা। অভিযোগ, তাকে একা পেয়ে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত তোফিজার। সেখানে তাকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। নাবালিকার চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
জনরোষ ও পুলিশের হস্তক্ষেপ: রাতেই অভিযুক্ত তোফিজারকে পাকড়াও করে উত্তেজিত জনতা। সোনাপুর মোড়ে তাকে ঘিরে ধরে গণধোলাই দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সোনাপুর ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গেও আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায়।
পুলিশি তৎপরতা: আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান:
“অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে। আইন নিজের পথে চলবে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।”
এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি: আপাতত তোফিজার পুলিশি হেফাজতে থাকলেও সোনাপুর এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন জঘন্য অপরাধের বিচার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এই ঘটনার জেরে উত্তরবঙ্গের নারী সুরক্ষা নিয়ে ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
একনজরে আপডেট:
-
অভিযুক্ত: তোফিজার (বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে)।
-
ঘটনাস্থল: সোনাপুর, আলিপুরদুয়ার।
-
বর্তমান অবস্থা: পুলিশি পাহারায় এলাকা শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে।