রাজ্যে নজিরবিহীন কাণ্ড! সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি মোবাইল নিয়ে কেন ঢুকলেন এজলাসে? জানলে চমকে যাবেন!

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নজিরবিহীন ডামাডোল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, খোদ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে শুনানির মাঝে মোবাইল ফোন নিয়ে এজলাসে ঢুকতে হলো। বাংলার ভোট আবহে ভোটারদের নাম বাদ পড়া থেকে শুরু করে রাজ্য প্রশাসনের ‘অসহযোগিতা’—সব মিলিয়ে সোমবার শীর্ষ আদালতে কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মুখ্যসচিবকে তীব্র ভর্ৎসনা: ‘নিজেকে অত বড় ভাববেন না’

শুনানির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিওয়ালা। কালিয়াচকের একটি স্পর্শকাতর ঘটনার সময় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁকে ফোন করলেও তিনি ধরেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে মুখ্যসচিব জানান, তিনি বিমানে থাকায় ফোন পাননি।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে নজিরবিহীন কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “আপনার পদমর্যাদা এতটাই বেশি যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো ছোট মানুষরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। দয়া করে নিজেকে একটু নিচে নামিয়ে আনুন।” আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, মুখ্যসচিবকে অবিলম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

৭ লাখ ভোটারের ভবিষ্যৎ কী?

রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান ও কপিল সিব্বল আদালতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রায় ৪৫ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। ৭ লাখ ভোটার আবেদন করলেও অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল এখনো কাজ শুরু করেনি। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নজিরবিহীন ডামাডোল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, খোদ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে শুনানির মাঝে মোবাইল ফোন নিয়ে এজলাসে ঢুকতে হলো। বাংলার ভোট আবহে ভোটারদের নাম বাদ পড়া থেকে শুরু করে রাজ্য প্রশাসনের ‘অসহযোগিতা’—সব মিলিয়ে সোমবার শীর্ষ আদালতে কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মুখ্যসচিবকে তীব্র ভর্ৎসনা: ‘নিজেকে অত বড় ভাববেন না’

শুনানির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিওয়ালা। কালিয়াচকের একটি স্পর্শকাতর ঘটনার সময় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁকে ফোন করলেও তিনি ধরেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে মুখ্যসচিব জানান, তিনি বিমানে থাকায় ফোন পাননি।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে নজিরবিহীন কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “আপনার পদমর্যাদা এতটাই বেশি যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো ছোট মানুষরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। দয়া করে নিজেকে একটু নিচে নামিয়ে আনুন।” আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, মুখ্যসচিবকে অবিলম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

৭ লাখ ভোটারের ভবিষ্যৎ কী?

রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান ও কপিল সিব্বল আদালতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রায় ৪৫ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। ৭ লাখ ভোটার আবেদন করলেও অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল এখনো কাজ শুরু করেনি। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সুপ্রিম কোর্টের বড় পদক্ষেপ: নতুন কমিটি গঠন

পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই কমিটিতে থাকবেন সিনিয়র বিচারপতিরা। রাজ্যের কয়েক’শ বিচারক এখন বিচারকাজ ছেড়ে ভোটার ও প্যান কার্ড যাচাইয়ের কাজ করছেন। এমনকি প্রাক্তন বিচারপতিদেরও ট্রাইব্যুনালে বসানো হচ্ছে। আদালত সতর্ক করেছে, এই প্রাক্তন বিচারপতিদের সাম্মানিক দিতে যেন কোনো দেরি না করা হয়।

মোবাইল হাতে প্রধান বিচারপতি!

এদিন এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী থাকে আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নিজেই বলেন, “আজ জীবনে প্রথমবার মোবাইল নিয়ে কোর্টরুমে ঢুকেছি।” আসলে বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখতে হচ্ছে তাঁকে। এই মামলার গুরুত্ব এবং জটিলতা বোঝাতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।