মতুয়া-রাজবংশীদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র! ৯০ লক্ষ নাম বাদ নিয়ে কমিশন ও বিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ মমতার

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া গাইডলাইন মেনে তৈরি হওয়া SIR তালিকায় প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এটি কোনও সাধারণ প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং একটি ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’।
মমতার অভিযোগ: কাদের টার্গেট করা হচ্ছে?
মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর প্রধান অভিযোগগুলি হলো:
-
সম্প্রদায় ভিত্তিক ছাঁটাই: মমতার দাবি, “টার্গেট করে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মতুয়া, রাজবংশী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
-
গণতন্ত্রে আঘাত: তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের আগে এই নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটাধিকার সীমিত করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি এবং কমিশন একযোগে কাজ করছে।
-
অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা: ভোটার তালিকার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও কেন্দ্রকে পাল্টা নিশানা করেন তিনি। তাঁর মতে, সঠিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিয়ে কেবল তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
SIR তালিকা ও ৯০ লক্ষের ধাক্কা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে ইনহ্যাবিট্যান্ট রিপোর্ট (SIR) তৈরি করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে রাজ্যের একটি বিশাল অংশের মানুষের ঠিকানার অসঙ্গতি বা অন্য কারণে নাম বাদ পড়েছে। মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদার মতো জেলাগুলোতে এই নাম বাদের সংখ্যা সবথেকে বেশি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, “যে প্রক্রিয়ায় এত নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তা নির্বাচনের সংবেদনশীলতাকে তোয়াক্কা করে না।”
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের পর বিজেপি-র পক্ষ থেকেও পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, অনুপ্রবেশকারী ও ভিনরাজ্যের ভুয়ো ভোটারদের সরাতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মতুয়া ও রাজবংশী মহলেও এই নাম বাদ যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।