“আমেরিকার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করল ইরান!”-ভয়ানক যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত মধ্যপ্রাচ্যে?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এবার ঘৃতাহুতি দিল ইরান। আমেরিকার সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক এবং পরোক্ষ যোগাযোগ (Backchannel communication) সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিল তেহরান। ‘তেহরান টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ সরকারি সূত্র এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন।

বন্ধ হলো ‘ব্যাকচ্যানেল’ আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে তৃতীয় কোনো দেশের (যেমন পাকিস্তান বা ওমান) মধ্যস্থতায় পর্দার আড়ালে বার্তা আদান-প্রদান চালু ছিল। সূত্রের খবর, ইরান এখন সেই ‘ব্যাকচ্যানেল’ বা পরোক্ষ যোগাযোগের পথও চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার শেষ আশাটুকুও কার্যত শেষ হয়ে গেল।

কেন এই সিদ্ধান্ত? যদিও সরকারিভাবে এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু এবং লোহিত সাগরে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনাই ইরানকে এই কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। ওয়াশিংটনের কোনো প্রস্তাব বা বার্তাই এখন আর শুনতে নারাজ তেহরান।

বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে বিশ্ব প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পশ্চিম এশিয়ার জন্য এক অশনি সংকেত। যখন দুটি শক্তিশালী দেশের মধ্যে আলোচনার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন ভুল বোঝাবুঝি (Miscalculation) বা আকস্মিক সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকেই শুরু হয়ে যেতে পারে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ।

বিশেষজ্ঞের মত: “যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া মানেই সংঘাতের পথ প্রশস্ত হওয়া। কূটনৈতিক মাধ্যম সচল না থাকলে যে কোনো পক্ষই একে অপরের গতিবিধি ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে, যা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি।”

বর্তমানে ওমান বা পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোও এই অচলাবস্থা কাটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস ইরানের এই চরম অবস্থানের প্রেক্ষিতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়।