ভবানীপুরে ‘মিনি ইন্ডিয়া’র মিছিল! বুধে মনোনয়ন পেশ মমতার, সব ধর্ম ও জাতির মহামিলন দেখবে আলিপুর

২০২৬-এর মহাযুদ্ধে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে আগামীকাল, বুধবার মনোনয়ন পত্র জমা দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে তাঁর এই মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে এক বর্ণাঢ্য মিছিলের পরিকল্পনা করেছে শাসকদল। এই মিছিলের মূল লক্ষ্যই হলো ভবানীপুরের বহুত্ববাদী বা ‘কসমোপলিটান’ চরিত্রকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা।
কেন একে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলা হচ্ছে?
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি কলকাতা পুরনিগমের ৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এখানকার জনবিন্যাস অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়:
-
বাঙালি আধিক্য: ৭২ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ড মূলত বাঙালি অধ্যুষিত।
-
অবাঙালি ভোটার: ৬৩, ৭০, ৭১, ৭৩ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করেন বিপুল সংখ্যক গুজরাতি, পঞ্জাবি, মাড়োয়ারি এবং জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ।
-
মুসলিম সংখ্যালঘু: ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের আধিক্য রয়েছে। এছাড়াও বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বহু শ্রমজীবী মানুষের বাস এই কেন্দ্রে। এই সমস্ত ভাষা ও ধর্মের মানুষের উপস্থিতিই মমতার মিছিলে নিশ্চিত করতে চাইছে তৃণমূল।
প্রস্তাবক তালিকায় চমক
রাজনৈতিক মেরুকরণের রাজনীতির পাল্টা দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবক তালিকায় সব স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রস্তাবক হিসেবে থাকতে পারেন:
-
ইসমাত হাকিম: কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী।
-
বাবলু সিংহ: ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি।
-
মীরজ শাহ: ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির প্রতিনিধি। এই সুপরিকল্পিত তালিকার মাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্ব বার্তা দিতে চাইছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল বাঙালির নন, তিনি সব ভাষা ও ধর্মের মানুষের নেত্রী।
মিছিলের পরিকল্পনা
বুধবার আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিলে মমতার সঙ্গে পা মেলাবেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, দেবাশিস কুমার এবং স্থানীয় কাউন্সিলররা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের দিন অমিত শাহের উপস্থিতিকে ‘মেরুকরণ’ বলে কটাক্ষ করেছিল তৃণমূল। এবার তার পাল্টা হিসেবে ‘সর্ব ধর্ম সমন্বয়’-এর ছবি ফুটিয়ে তোলাই ঘাসফুল শিবিরের প্রধান রণকৌশল।
এডিটরস ইনসাইট: ভবানীপুর বরাবরই রাজনৈতিক সচেতনতার কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার অবাঙালি ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক যে কোনো প্রার্থীর জয়ের জন্য নির্ণায়ক। মমতার এই ‘মিনি ইন্ডিয়া’ মডেল কেবল ভবানীপুর নয়, বরং গোটা রাজ্যের ভোটারদের কাছে এক শক্তিশালী ধর্মনিরপেক্ষ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা।