স্ত্রীর নামে ৫টি বাড়ি, কয়েক কোটির স্থাবর সম্পত্তি! বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুর হলফনামায় চাঞ্চল্য

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের আগে প্রার্থীদের সম্পত্তির খতিয়ান নিয়ে বরাবরই কৌতূহল থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে এবার বিধাননগর কেন্দ্রের হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের দাপুটে নেতা সুজিত বসুর হলফনামা এক অন্য মাত্রার চর্চা শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে কয়েক গুণ।

৫ বছরে সম্পত্তির উল্লম্ফন হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে সুজিত বসুর স্থাবর ও অস্থাবর— উভয় সম্পত্তির পরিমাণই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • ২০২১-এ সম্পত্তি: গত নির্বাচনে তাঁর ঘোষিত মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬.৫৮ কোটি টাকা

  • ২০২৬-এ সম্পত্তি: এবারের হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই অঙ্ক কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক কোটির ঘর ছাড়িয়েছে (সূত্র অনুযায়ী ৫ বছরে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি)।

স্ত্রীর নামে সম্পত্তির পাহাড়? সুজিত বসুর নিজের সম্পত্তির থেকেও বেশি চর্চা হচ্ছে তাঁর স্ত্রী ঊষা বসুর সম্পত্তি নিয়ে। হলফনামায় দেখা গিয়েছে:

  • ৫টি বাড়ি: মন্ত্রীর স্ত্রীর নামে বিভিন্ন জায়গায় মোট ৫টি আবাসিক বাড়ি বা ফ্ল্যাট রয়েছে।

  • গয়না ও বিনিয়োগ: স্বর্ণালঙ্কার এবং বিভিন্ন ব্যাংক আমানতের ক্ষেত্রেও সুজিত বসুর চেয়ে তাঁর স্ত্রী অনেকটাই এগিয়ে।

গাড়ি ও বিলাসবহুল জীবন হলফনামা অনুযায়ী, সুজিত বসুর সংগ্রহে রয়েছে একাধিক দামী গাড়ি। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের পরিমাণও গত পাঁচ বছরে কয়েক ধাপ বেড়েছে।

বিরোধীদের কটাক্ষ এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিজেপি ও সিপিএম। বিরোধীদের দাবি, “একজন জনসেবকের সম্পত্তি ৫ বছরে এত দ্রুত কীভাবে বাড়তে পারে, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।” যদিও তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সমস্ত সম্পত্তি আইন মেনেই কেনা হয়েছে এবং হলফনামায় সত্য তথ্যই পরিবেশন করা হয়েছে।

বিধাননগরের সাধারণ মানুষ এই হলফনামা নিয়ে কী ভাবছেন, তার প্রতিফলন ঘটবে আগামী ভোটবাক্সে। তবে ভোটের আগে সুজিত বসুর এই ‘সম্পত্তি-বিস্ফোরণ’ যে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।