“বাংলার আইন-শৃঙ্খলা শেষ, এবার পরিবর্তন নিশ্চিত!” মমতাকে কামান দেগে কোন ৩টি সত্য ফাঁস করলেন রাজনাথ সিং?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই বঙ্গ বিজেপির পালে হাওয়া দিতে ময়দানে নামলেন দেশের হেভিওয়েট নেতা তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। মঙ্গলবার বাংলায় এক মেগা জনসভা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ‘কামান’ দাগলেন তিনি। দুর্নীতি থেকে শুরু করে নারী সুরক্ষা— একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের ‘কীর্তি’ ফাঁস করে তিনটি বড় দাবি পেশ করেছেন রাজনাথ।

১. “সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির স্বর্গরাজ্য বাংলা” রাজনাথ সিংয়ের প্রথম এবং প্রধান দাবি— তৃণমূল শাসনে বাংলা এখন সিন্ডিকেট রাজের কবলে। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই তৃণমূলের ক্যাডারদের পকেটে চলে যাচ্ছে। তাঁর কথায়:

“মমতা দিদি কেন্দ্রের পাঠানো টাকা আটকে রাখছেন না কি তাঁর ভাইপো আর সঙ্গীরা সেই টাকা লুঠ করছে, তার জবাব বাংলার মানুষ এবার ব্যালট বক্সে দেবে।”

২. “নারী সুরক্ষা এখন প্রহসন” আর জি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে সন্দেশখালি— সাম্প্রতিক নানা ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাজনাথ দাবি করেন, যে রাজ্যে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী আছেন, সেই রাজ্যেই মহিলারা সবথেকে বেশি অসুরক্ষিত। তাঁর দ্বিতীয় বড় দাবি, বাংলার পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে শাসক দল, যার ফলে সাধারণ মানুষ বিচার পাচ্ছে না।

৩. “পরিবর্তন এখন সময়ের অপেক্ষা” তৃতীয়ত, রাজনাথ সিং অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন যে, ২০২৬-এ বাংলায় বিজেপির জয় নিশ্চিত। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ এখন মোদীজির ‘উন্নয়ন’ এবং তৃণমূলের ‘অপশাসন’-এর মধ্যে পার্থক্য বুঝে গিয়েছে। তিনি সাফ জানান, “তৃণমূলের শেষের দিন ঘনিয়ে এসেছে, এবার আসল পরিবর্তন হবেই।”

কেন উত্তাল রাজনৈতিক মহল? প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিজেপি এবার আর রক্ষণাত্মক নয়, বরং সরাসরি ‘অ্যাটাকিং’ মোডে ভোট লড়তে চাইছে। রাজনাথ সিংয়ের মতো একজন সিনিয়র লিডার যখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে নথি ও তথ্যের কথা বলেন, তখন তা ভোটারদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য রাজনাথের এই বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘ভোটের আগে নাটক’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনাথের এই ‘তিন দাবি’ আগামী কয়েকদিন বাংলার রাজনৈতিক বিতর্কে যে প্রধান রসদ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।