শন দুর্নীতি রুখতে বিহার মডেল! কলকাতায় দাঁড়িয়ে দুর্নীতিবাজদের চরম হুঁশিয়ারি বিজয় সিনহার, কাঁপছে শাসক শিবির?

বাংলার রেশন দুর্নীতি যখন আদালতে বিচারাধীন, ঠিক তখনই কলকাতায় দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা। বিহারে রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে তিনি যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই ‘সফল মডেল’ তুলে ধরে পরোক্ষভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একহাত নিলেন তিনি।

২২ লাখ কার্ড বাতিল: বিহারের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বিজয় সিনহা এদিন জানান, বিহারে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দুর্নীতিমুক্ত রেশন ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর দাবি:

“আমরা ইতিমধ্যে ২২ লাখ জাল রেশন কার্ড চিহ্নিত করে তা বাতিল করেছি। যাঁরা অযোগ্য হয়েও গরিবের হক মারছিল, তাঁদের রেয়াত করা হয়নি। বাংলার মাটিতেও একই স্বচ্ছতা প্রয়োজন।”

SIR-এর পর এবার কার পালা? বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে তিনি শুধু কার্ড বাতিল নয়, বরং প্রশাসনিক স্তরেও রদবদল করছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আধিকারিকদের (SIR/Officers) পর এবার নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে অসাধু ডিলার ও সিন্ডিকেট চক্রকে। তাঁর সাফ কথা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেশন বণ্টন নিশ্চিত করলেই চুরি বন্ধ হবে।

বাংলার জন্য বিশেষ বার্তা ভোটের আবহে বাংলায় এসে বিজয় সিনহার এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় প্রকল্পের চাল-গম সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে যদি খোলা বাজারে বিক্রি হয়, তবে সেই সরকারকে মানুষ ক্ষমা করবে না।” মূলত আর জি কর থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি— একাধিক ইস্যুতে যখন রাজ্য উত্তাল, তখন বিজয় সিনহার এই ‘২২ লাখের হুঁশিয়ারি’ বঙ্গ বিজেপির পালে বাড়তি হাওয়া দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কেন এই খবরটি ভাইরাল? বিহারে বর্তমানে এনডিএ সরকার দুর্নীতি দমনে যেভাবে মারকুটে মেজাজে কাজ করছে, বিজয় সিনহার বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। বিশেষ করে ‘২২ লাখ রেশন কার্ড বাতিল’-এর পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে, সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতি রোখা সম্ভব।