“খেলা হবে না, এবার খেলা শেষ!” তৃণমূলের বুথ ভাঙিয়ে বড় ধামাকা শুভেন্দুর, অস্বস্তিতে শাসক শিবির

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। আর ঠিক এই সন্ধিক্ষণে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটল ধরালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তৃণমূলের একাধিক বুথ স্তরের সভাপতি ও প্রথম সারির কর্মীদের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দিয়ে শাসক শিবিরের ‘অর্গানাইজেশনাল স্ট্রাকচার’ বা সাংগঠনিক ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিলেন তিনি।
তৃণমূলের গড়ে সিঁধ কাটছেন শুভেন্দু? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে বুথ স্তরের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকে, জয়ের সম্ভাবনা তাঁরই বেশি। শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাবি করেছেন, তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা এখন দিশেহারা। তাঁর কথায়:
“তৃণমূলের বুথ স্তরের যে কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করেন, তাঁরা আজ অবহেলিত। সেই ক্ষোভ থেকেই তাঁরা মোদীজির উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হচ্ছেন। এটা তো মাত্র শুরু, ভোটের দিন যত এগোবে, তৃণমূলের বুথ এজেন্ট খুঁজে পাওয়া দায় হবে।”
শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্রেই এবার জান লড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের মাঠে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানানো, অন্যদিকে নিজের জমি রক্ষা করা। এই জোড়া লড়াইয়ের মাঝেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূলের বুথ স্তরের নেতাদের বিজেপিতে নিয়ে আসা শুভেন্দুর এক বড় ‘মাইন্ড গেম’ বলে মনে করা হচ্ছে।
অস্বস্তিতে শাসক শিবির ভোটের মুখে বুথ স্তরের নেতাদের এই দলবদল স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে ফেলেছে তৃণমূল নেতৃত্বকে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে একে ‘সুযোগসন্ধানীদের দলবদল’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে, কিন্তু নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক শক্তির এই ক্ষয় ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
ভাইরাল মুহূর্ত: এদিন বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূল কর্মীদের সাথে শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপি সমর্থকদের দাবি, এই ভাঙন বুঝিয়ে দিচ্ছে যে বাংলায় এবার ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ আসন্ন।