হিমন্ত-পত্নীর ৩টি পাসপোর্ট, তাও আবার মুসলিম দেশে! পবন খেরার বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় দেশ

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার পরিবারকে ঘিরে ঘনিয়ে উঠল চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা। মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিঙ্কি ভুঁইয়া শর্মার বিরুদ্ধে একাধিক পাসপোর্ট এবং বিদেশের সম্পত্তির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে কার্যত মৌচাকে ঢিল ছুড়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এবং গৌরব গগৈ। এই অভিযোগের রেশ ধরেই মঙ্গলবার দিল্লির কংগ্রেস নেতার বাসভবনে হানা দেয় দিল্লি ও অসম পুলিশের একটি যৌথ দল। যদিও হিমন্তের দাবি, গ্রেফতারি এড়াতে ইতিমধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছেন খেরা।
সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে পবন খেরা দাবি করেন, হিমন্ত বিশ্বশর্মার রাজনীতির মূল ভিত্তিই হলো মুসলিম-বিদ্বেষ, অথচ তাঁর নিজের স্ত্রীর নামেই রয়েছে দু’টি মুসলিম দেশের পাসপোর্ট। খেরা প্রশ্ন তোলেন, “ভারতীয় আইন অনুযায়ী যেখানে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিষিদ্ধ, সেখানে রিঙ্কি ভুঁইয়া শর্মা কীভাবে তিনটি পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি তাঁর এই তথ্য জানতেন?” অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেন, দুবাই এবং আমেরিকার ওয়াইওমিং-এ হিমন্ত পরিবারের বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। এই সমস্ত সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
পাল্টা জবাবে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি বলেন, “কাল পর্যন্ত যিনি বুক ফুলিয়ে বলছিলেন গ্রেফতার করতে, আজ পুলিশ আসতেই তিনি হায়দরাবাদে পালিয়েছেন। আমায় পবন খেরাকে পবন পেড়া করে ছাড়ব।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কংগ্রেস যে সমস্ত নথি পেশ করেছে তা পাকিস্তানের একটি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে নেওয়া এবং সম্পূর্ণ জাল।
হিমন্ত জানান, তাঁর স্ত্রী ইতিমতেই এই মানহানিকর ও ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে পুলিশে এফআইআর দায়ের করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে জাল নথি ব্যবহার করলে নতুন বির্তীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, পুলিশ আইনের নির্ধারিত পথেই এই জালিয়াতির বিচার করবে।