“এগজিট পোল থেকে বাল্ক এসএমএস—সব নিষিদ্ধ!”-ভোটের আগে অসমে জারি হাই অ্যালার্ট

অসমের মসনদে আগামী ৫ বছর কারা বসবে, তার প্রথম দফার ফয়সালা হতে চলেছে আগামী ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। ঠিক তার ৪৮ ঘণ্টা আগে, আজ ৭ এপ্রিল বিকেল ৫টা থেকে রাজ্যজুড়ে বাধ্যতামূলক ‘নীরবতা পর্ব’ (Silence Period) কার্যকর করার ঘোষণা করলেন অসমের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অনুরাগ গোয়েল। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৬ ধারা অনুযায়ী এই কড়াকড়ি শুরু হলো।

কী কী বন্ধ থাকছে এই ৪৮ ঘণ্টায়?

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আজ বিকেল ৫টার পর থেকে:

  • প্রচার নিষিদ্ধ: কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী জনসভা, মিছিল, রোড-শো বা র‍্যালি করতে পারবেন না।

  • ডিজিটাল কড়াকড়ি: শুধু মাঠঘাট নয়, সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি, রেডিও বা বাল্ক এসএমএস-এর মাধ্যমেও কোনও প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন বা কনটেন্ট প্রকাশ করা যাবে না। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করাও আইনত দণ্ডনীয়।

  • এগজিট পোল: কোনও মতামত সমীক্ষা বা এগজিট পোলের ফলাফল এই সময়ে প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বহিরাগত নেতাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে সমস্ত রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী ওই নির্দিষ্ট নির্বাচনী কেন্দ্রের ভোটার নন, কিন্তু প্রচারের কাজে সেখানে ছিলেন, তাঁদের আজ বিকেলের মধ্যেই এলাকা ছাড়তে হবে। বাইরের কোনও প্রভাব যাতে ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তে বাধা না দেয়, তা নিশ্চিত করতেই পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই ‘নীরবতা পর্ব’?

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অনুরাগ গোয়েলের মতে, এই ৪৮ ঘণ্টা ভোটারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও রকম প্রচার বা প্রলোভনের চাপ ছাড়াই যাতে সাধারণ মানুষ শান্ত মাথায় তাঁদের প্রতিনিধি বেছে নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র (Level Playing Field) তৈরি করা হয়েছে।

অসম ভোটের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ:

  • ভোটগ্রহণ: ৯ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)।

  • ফলাফল: ৪ মে ২০২৬ (পশ্চিমবঙ্গের সাথেই ফল প্রকাশ)।

অসমের এই নির্বাচনে এবার ইস্যু অনেক— এনআরসি-সিএএ থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান ও মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ। একদিকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ‘গ্যারান্টি’, অন্যদিকে কংগ্রেসের ‘৫ প্রতিশ্রুতি’— শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হয়, তা জানতে নজর রাখুন আমাদের পরবর্তী আপডেটে।