“CPM-ছেড়ে BJP-তে!”-এবার পদ্ম শিবিরে অনিল-পুত্র সৌম্য,ক্ষিতি-কন্যার পর ফের বড় ধাক্কা আলিমুদ্দিনে

একদিকে নির্বাচনী ময়দানে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, অন্যদিকে ঘরের ছেলে-মেয়েদের দলবদল— ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ ভোটের আগে কার্যত দিশেহারা অবস্থা বাম শিবিরের। প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর দুই কন্যার পর এবার দল ছাড়লেন আরামবাগের দোর্দণ্ডপ্রতাপ প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসু। তবে বাবার দল ছেড়ে তাঁর গন্তব্য তৃণমূল নয়, বরং সরাসরি বিজেপি।
অনিল-পুত্রের পদ্ম-যাত্রা: বিঁধলেন বর্তমান সিপিএমকে
আরামবাগের ছয়বারের সাংসদ অনিল বসু আমৃত্যু অন্য কোনও দলে যাননি। কিন্তু তাঁর ছেলে সৌম্য বসু, যিনি নিজেও এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই-এর সক্রিয় কর্মী ছিলেন, তিনি এখন বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সৌম্যর বিস্ফোরক দাবি:
“জ্যোতি বসু বা অনিল বিশ্বাসের সময়ের সিপিএম আর বর্তমান সিপিএমের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। আগে বামপন্থা ছিল গরিব মানুষের জন্য, এখন এটা ‘চকচকে এলিট’ বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়ে গিয়েছে।”
বিজেপিকে কেন বেছে নিলেন? সৌম্যর সাফ জবাব, বিজেপি একটি ‘দেশভক্তের দল’, আর সেই আদর্শই তাঁকে আকর্ষণ করেছে।
ক্ষিতি গোস্বামীর দুই কন্যা: দুই মেরুর বাসিন্দা
প্রয়াত বাম নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর পরিবারেও ভাঙন ধরেছে আদর্শের ভিত্তিতে।
-
বসুন্ধরা গোস্বামী: বড় মেয়ে আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়ে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর হয়েছেন।
-
কস্তুরী গোস্বামী: ছোট মেয়ে কস্তুরী সোমবার শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
একই পরিবারের দুই সদস্যের দুই প্রধান বিরোধী শিবিরে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— বামেরা কি তবে নিজেদের পরিবারের সদস্যদেরও ধরে রাখতে পারছে না?
প্রতীক-উর রহমানের তৃণমূলে সক্রিয়তা
শুধু পরিবারের সদস্য নয়, তরুণ তুর্কিরাও হাতছাড়া হচ্ছে বামেদের। গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারের সিপিএম প্রার্থী প্রতীক-উর রহমান ফেব্রুয়ারি মাসে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি তৃণমূলের হয়ে প্রচারে ব্যস্ত এবং উল্টে সিপিএমকেই প্রশ্ন করছেন কর্মসংস্থান নিয়ে।
পর্যবেক্ষণ: কোথায় যাচ্ছে বাম ভোট?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দলবদলগুলো কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বামপন্থী ভোটারদের মধ্যেও যে দোলাচল রয়েছে, তারই প্রতিফলন। আদর্শের টানে কেউ ‘বাঙালি অস্মিতা’ আর উন্নয়নের টানে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকছেন, আবার কেউ ‘দেশপ্রেম’ আর হিন্দুত্বের টানে বিজেপির দিকে।
বামেদের এই ‘রক্তক্ষরণ’ কি ২০২৬-এর ফলাফলে বড় কোনও প্রভাব ফেলবে? উত্তরের অপেক্ষায় বাংলার রাজনৈতিক মহল।