“রাষ্ট্রপতির সইয়ে সিলমোহর”-অমরাবতীই এখন অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন রাজধানী, উচ্ছসিত জনতা

বিভাজনের প্রায় এক দশক পর অবশেষে নিজস্ব স্থায়ী ঠিকানা পেল অন্ধ্রপ্রদেশ। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্প্রতি Andhra Pradesh Reorganisation (Amendment) Act, 2026-এ স্বাক্ষর করার ফলে সরকারিভাবে অন্ধ্রের রাজধানীর মর্যাদা পেল অমরাবতী (Amaravati)। সোমবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক এই সংক্রান্ত গেজেট নোটিফিকেশন জারি করার পর বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু এই জয়কে রাজ্যের মানুষের দীর্ঘদিনের ‘স্বপ্নপূরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

আইনি জট ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

২০১৪ সালের ২ জুন অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙে তেলঙ্গানা গঠিত হয়েছিল। সেই সময়কার আইন অনুযায়ী ঠিক হয়েছিল:

  • আগামী ১০ বছর (২ জুন ২০২৪ পর্যন্ত) হায়দরাবাদ দুই রাজ্যের যৌথ রাজধানী থাকবে।

  • এই সময়ের পর হায়দরাবাদ শুধুমাত্র তেলঙ্গানার রাজধানী হিসেবে গণ্য হবে এবং অন্ধ্রপ্রদেশকে নিজেদের নতুন রাজধানী বেছে নিতে হবে।

জগন বনাম চন্দ্রবাবু: রাজধানী নিয়ে দড়ি টানাটানি

গত দশ বছরে অন্ধ্রের রাজধানী নিয়ে কম নাটক হয়নি।

  • তিন রাজধানীর পরিকল্পনা: ওয়াই এস জগনমোহন রেড্ডির নেতৃত্বাধীন পূর্বতন YSR কংগ্রেস সরকার তিনটি রাজধানীকে (বিশাখাপত্তনম-কার্যনির্বাহী, অমরাবতী-প্রশাসনিক এবং কুর্নুল-বিচারবিভাগীয়) স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট সেই পরিকল্পনা খারিজ করে দেয়।

  • চন্দ্রবাবুর প্রত্যাবর্তন: ২০২৪-এর নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে TDP ক্ষমতায় ফিরতেই ভোলবদল হয়। চন্দ্রবাবু নাইডু সাফ জানিয়ে দেন, “রাজ্যের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা হবে না, অমরাবতীই হবে একমাত্র রাজধানী।”

নতুন আইনের বিশেষত্ব কী?

গত সপ্তাহে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই এই সংশোধনী বিলটি পাশ হয়। নতুন আইনের ফলে: ১. অমরাবতীকে স্থায়ী রাজধানী হিসেবে আইনি রক্ষা কবচ দেওয়া হয়েছে। ২. ভবিষ্যতে এই অবস্থান পরিবর্তন করতে হলে এখন থেকে সরাসরি সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ৩. বিশাখাপত্তনমকে রাজ্যের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

উন্নয়নের নয়া দিগন্ত

অমরাবতীকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া রাজ্যের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এই সিদ্ধান্তের ফলে অমরাবতী সংলগ্ন এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২ জুন ২০২৪ থেকেই এই আইন কার্যকর বলে ধরা হয়েছে, যার ফলে হায়দরাবাদের ওপর অন্ধ্রপ্রদেশের প্রশাসনিক নির্ভরশীলতা এখন খাতায়-কলমে শেষ হলো।