ইরানের শাসকের কি মৃত্যুঘণ্টা বেজে গিয়েছে? কোম শহরের গোপন ডেরায় ‘কোমায়’ মোজতবা খামেনেই!

ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে। মাঝেমধ্যে কিছু বিবৃতি সামনে এলেও সশরীরে একবারও দেখা মেলেনি তাঁর। ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই-এর স্বাস্থ্য নিয়ে এবার বিস্ফোরক দাবি করল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাংশ। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মোজতবার অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক এবং তিনি বর্তমানে সংজ্ঞাহীন বা কোমায় রয়েছেন!
গোপন ডেরায় চিকিৎসা?
সূত্র মারফত খবর, তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে পবিত্র শহর কোম-এ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে মোজতবার চিকিৎসা চলছে।
-
গোয়েন্দা তথ্য: দাবি করা হচ্ছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে তাঁর অবস্থানের নিখুঁত খবর রয়েছে।
-
সিদ্ধান্তহীন রাষ্ট্র: মোজতবা এতটাই অসুস্থ যে তিনি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই— এই তথ্য ইতিমধ্য়েই উপসাগরীয় বন্ধুদেশগুলোকে জানানো হয়েছে বলে খবর।
রহস্যের সূত্রপাত: ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই হামলা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনীর এক বিধ্বংসী হামলায় মৃত্যু হয়েছিল মোজতবার বাবা তথা প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর।
-
জখম হওয়ার তত্ত্ব: গুঞ্জন রয়েছে, যে হামলায় বাবার মৃত্যু হয়েছিল, সেই একই হামলায় মোজতবাও গুরুতর জখম হন। এমনকি তাঁর স্ত্রী ও পুত্রেরও মৃত্যু হয়েছে বলে শোনা যায়।
-
ছবির লড়াই: ইরান মাঝেমধ্যে মোজতবার কিছু ছবি প্রকাশ করলেও, সেগুলো পুরনো না বর্তমানের, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
ট্রাম্পের সংশয় বনাম ইরানের নীরবতা
এর আগে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবার বেঁচে থাকা নিয়ে প্রকাশ্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ইরান সেই সময় দাবি করেছিল তিনি জীবিত এবং রাশিয়ায় তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে ওয়াশিংটন, তেল আভিভ বা তেহরান— কোনো পক্ষই আজ পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ পেশ করতে পারেনি।
মনোবল ভাঙার রণকৌশল?
সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য এই ধরণের খবর ছড়ানো খুব সাধারণ বিষয়। এর আগে নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়েও এমন গুজব ছড়িয়েছিল। তবে মোজতবা খামেনেই যদি সত্যিই অসুস্থ বা মৃত হন, তবে ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বড়সড় ধাক্কা খাবে— তা বলাই বাহুল্য।