“১০ হাজার না ৫ হাজার?”-হাওড়া উত্তরে কত হিন্দিভাষী ভোট? BJP-র টার্গেট কারা?

উত্তর হাওড়া কেন্দ্রে রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে ঘাসফুল শিবিরের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের দাবি, অন্যদিকে গেরুয়া শিবিরের নতুন কৌশলী প্রচার— সব মিলিয়ে এই আসনটি এখন রাজ্যের অন্যতম ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’। বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই এবার নির্দিষ্ট কয়েকটি ওয়ার্ডের হিন্দিভাষী ভোটারদের লক্ষ্য করে তাঁর ঘুঁটি সাজিয়েছেন।

বিজেপির ‘হিন্দিভাষী’ কৌশল ও বড় প্রতিশ্রুতি

প্রচার অভিযানে কাঙ্ক্ষিত জোয়ার আনতে বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই উত্তর হাওড়ার ১, ১৩, ১৫ এবং ২ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ নজর দিয়েছেন। এই এলাকাগুলিতে হিন্দিভাষী ভোটারের হার ৭০-৮০ শতাংশ।

  • মূল হাতিয়ার: দীর্ঘদিনের নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং একটি বিশ্বমানের হাওড়া বাস টার্মিনাল তৈরির প্রতিশ্রুতি।

  • জনসংযোগ: বড় সভার চেয়ে আবাসন ও মহল্লায় ছোট ছোট বৈঠকে বেশি জোর দিচ্ছেন তিনি। উমেশের দাবি, “যেখানে সমর্থন বেশি, সেখানে ফোকাস করা স্বাভাবিক কৌশল।”

তৃণমূলের পাল্টা চাল: ‘সত্যবালা জল প্রকল্প’

বিজেপির এই রণকৌশলকে পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল প্রার্থী গৌতম চৌধুরী। তৃণমূলের প্রচারের মূল স্তম্ভ হলো এলাকার উন্নয়ন:

  • জলসংকট নিরসন: ‘সত্যবালা জল প্রকল্প’-এর সাফল্যকে সামনে রেখে ভোট চাইছেন তাঁরা। তৃণমূলের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের জলের সমস্যা মিটেছে।

  • সংগঠনের জোর: ১৪টি ওয়ার্ডেই সমান তৎপরতায় প্রচার চালাচ্ছেন গৌতম চৌধুরী। তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা— “বাংলা হোক বা হিন্দি, সব ভোটারই আমাদের কাছে সমান।”

সংখ্যা ও সমীকরণ কী বলছে?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর হাওড়ার লড়াই বরাবরই হাড্ডাহাড্ডি হয়।

  • ২০২১ বিধানসভা: তৃণমূল জয়ী হয়েছিল মাত্র ৫,৫২২ ভোটে

  • ২০২৪ লোকসভা: লিড বেড়ে হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার। এই ১০ হাজারের ব্যবধান ঘোচাতে বিজেপি মরিয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল কয়েকটি ওয়ার্ডের ওপর ভিত্তি করে বৈচিত্র্যময় এই কেন্দ্রে জয় পাওয়া কঠিন। তৃণমূল গত কয়েক বছরে হিন্দিভাষী এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যে প্রভাব বিস্তার করেছে, তা টপকানো উমেশ রাইয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মেরুকরণ বনাম উন্নয়ন

বিজেপির এই এলাকাভিত্তিক প্রচারকে ‘মেরুকরণের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। শাসক শিবিরের দাবি, বিজেপি বিভাজনের চেষ্টা করলেও মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দেবেন। অন্যদিকে, বিজেপির আশা— উন্নয়নের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরে বাঙালি ভোটাররাও এবার ‘নীরব’ বদল আনবেন।