২০১৬ থেকে ২০১৯-এর বকেয়া ডিএ এবার অ্যাকাউন্টে? বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীদের জন্য এল বড় আপডেট!

রাজ্যের সরকারি কর্মী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। লোকসভা ভোটের দামামা বাজার আগেই বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে তৎপর হয়েছে রাজ্যের অর্থ ও উচ্চশিক্ষা দফতর। সোমবার উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে রাজ্যের সমস্ত সরকার পোষিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কর্মরত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। মূলত ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ-র হিসেব নিকেষ চূড়ান্ত করতেই এই তৎপরতা।

নবান্ন সূত্রে খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট তিন বছরে প্রত্যেক কর্মচারী বা পেনশনভোগী প্রতি মাসে কত টাকা ডিএ (DA) এবং ডিআর (DR) পেয়েছেন, তার একটি নিখুঁত ডেটাবেস তৈরি করতে হবে। এই তথ্যগুলি যাচাই করে ডিডিও-র (DDO) মাধ্যমে সার্টিফাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেজিস্ট্রারদের। প্রতিটি দফতরে কতজন কর্মী এই ভাতার আওতায় আসতে পারেন, তার সঠিক সংখ্যা দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ মার্চ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছিলেন যে, কেবল সরকারি কর্মীই নন, বরং শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকার অনুমোদিত স্বশাসিত ও অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলিও ডিএ পাওয়ার অধিকারী। রোপা-২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ২০২৬ সালের মার্চ থেকে দেওয়ার কথা থাকলেও, সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন মেনে ইতিমধ্যেই ২০১৬-২০১৯ পর্বের বকেয়া টাকা সরকারি কর্মীদের মিটিয়ে দিয়েছে রাজ্য। এবার বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সেই বকেয়া মেটানোর পালা।

রাজ্যের এই পদক্ষেপে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং পেনশনভোগীরাও। নবান্নর এই ডেটাবেস তৈরির নির্দেশিকা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বকেয়া ডিএ-র টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। একদিকে ভোটের উত্তাপ, অন্যদিকে বকেয়া পাওনা মেটানোর এই প্রশাসনিক সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ডিএ ইস্যু এখন মধ্যগগনে।