“১-২টো কেস দেব, ঝুলিয়ে দেব!”—মোদির ‘হিসেব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারিতে মমতার পাল্টা হুঙ্কার

ভোটমুখী বাংলায় এখন চৈত্র সেলের চেয়েও চড়া রাজনৈতিক পারদ। যত দিন এগোচ্ছে, বাগযুদ্ধে ততই শান দিচ্ছেন যুযুধান পক্ষগুলি। রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন ‘বেছে বেছে হিসেব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সোমবার তার পাল্টা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানালেন, “বেশি কথা বলবেন না, ১-২টো কেস দিয়ে ঝুলিয়ে দেব।” অর্থাৎ, দিল্লির ‘হিসেব’ নেওয়ার বার্তার জবাবে মমতার হাতিয়ার এখন ‘গণতন্ত্রের কাঠগড়া’।
রবিবার কোচবিহারের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের উদ্দেশে কড়া ভাষায় বলেছিলেন, “আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, এবার ভোটের পরে এদের পাপের পূর্ণ হিসেব হবে। ৪ মের পরে আইন তার কাজ করবে। যত বড়ই গুন্ডা হোক, এবার ন্যায় হবে।” মোদির এই ‘বাছাই করে হিসেব’ নেওয়ার মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। সোমবার এর পাল্টা দিতে দেরি করেননি তৃণমূল নেত্রী। আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে মোদির নাম না করে মমতা হুঙ্কার ছাড়েন, “মাথায় রেখে দেবেন, বেশি কথা বলবেন না। একটা দুটো কেস দেব, আপনাদের ঝুলিয়ে দেব। গণতন্ত্রের কাঠগড়ায়। আপনারা বুঝবেন নিজেরা কী করেছেন।”
এই লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার জলঙ্গির সভা থেকে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দাঁতে দাঁত চেপে আর মাত্র ২৮টা দিন অপেক্ষা করুন। ফল বেরনোর পর সুদে-আসলে জবাব দেব। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি।” অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ব্রিগেডের সভা থেকেই তৃণমূলের দুর্নীতির ‘কাউন্টডাউন’ শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, এবার দুর্নীতিবাজদের আর রেহাই নেই।
তৃণমূলের দাবি, ইডি-সিবিআই দিয়ে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না, মানুষ ব্যালটে জবাব দেবে। পাল্টা বিজেপির হুঙ্কার, ৪ মে রেজাল্টের পর আর পার পাওয়া যাবে না। একদিকে মোদির ‘বাছাই করা হিসেব’, অন্যদিকে মমতার ‘ঝুলিয়ে দেওয়া’র পাল্টা চাল—দুই পক্ষের এই প্রবল শব্দযুদ্ধে আপাতত থরহরি কম্পমান বাংলার জনতা। শেষ পর্যন্ত ৪ মে কার ‘হিসেব’ মিলবে আর কে ‘জবাব’ দেবে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।