“ইরানকে পাথরের যুগে পাঠিয়ে দেব!”—ট্রাম্পের চরম আল্টিমেটামে কাঁপছে দুনিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের টানটান উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ইরানকে ‘সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ প্রকাশ্য ঘোষণা করে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, মার্কিন শর্ত না মানলে এক রাতেই ইরান নামক দেশটিকে কার্যত নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে আমেরিকা। আর সেই ধ্বংসলীলা শুরু হতে পারে আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই।
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন হুঁশিয়ারির মূলে রয়েছে তেহরানের অনড় মনোভাব। প্রেসিডেন্ট জানান, তেহরান যদি অবিলম্বে কোনো চুক্তিতে না আসে অথবা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনর্নিমিত না করে, তবে চরম সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি রীতিমতো সময় মেপে আক্রমণ শানানোর হুমকি দিয়ে বলেন, “সাত দিনের সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধ ছিল, আমি ওদের ১০ দিন সময় দিয়েছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত ওদের হাতে সময় আছে। এরপর কী ঘটে শুধু দেখুন। ওদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না। পুরো ইরানকে আমরা প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।”
হোয়াইট হাউসের এই কড়া বার্তার জবাবে পাল্টা গর্জে উঠেছে ইরানও। ট্রাম্পের ‘আক্রমণাত্মক ভাষা’ ও ‘অযৌক্তিক হুমকি’কে গুরুত্ব দিতে নারাজ তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমেরিকার এই ধরনের হুমকিতে ইজরায়েল বা মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের চলমান সামরিক অভিযান ব্যাহত হবে না। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় কেবল হামলার হুমকিই দেননি, বরং এক দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রয়োজনে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আবেগী স্বরে বলেন, “আমরা কোনো আমেরিকানকে পেছনে ফেলে যাব না।” সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে, তা ট্রাম্পের কথাতেই স্পষ্ট। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যায় কি না, সেদিকেই নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।