TMC-নেতাকে পুলিশের গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, আইসি-কে সাসপেন্ড করল কমিশন

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আবারও কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। এবার কমিশনের রোষানলে পড়লেন নৈহাটি থানার আইসি মহাবীর বেরা। অভিযোগ, সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তৃণমূলের এক হেভিওয়েট নেতাকে নিজের পুলিশের গাড়িতে করে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সোমবার রাতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করার নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

সোমবার ছিল প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ব্যারাকপুরের মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়ন জমা দিতে যান নৈহাটির তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ ওঠে, অশোকবাবু যে গাড়িটি করে মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছেছেন, সেটি আসলে পুলিশের গাড়ি। খোদ আইসি মহাবীর বেরা তাঁকে পৌঁছে দেওয়ার ‘পরিষেবা’ দিয়েছেন বলে সরব হয় বিজেপি।

অর্জুন সিং-এর পোস্ট ও কমিশনের পদক্ষেপ

বিজেপি নেতা অর্জুন সিং এই ঘটনার একটি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম) এক্স (X) হ্যান্ডলে পোস্ট করে দাবি করেন, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গাড়ি ব্যবহার করে তৃণমূল নেতাকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি একে সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ বলে অভিহিত করে কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে রাতেই কমিশন নির্দেশিকা জারি করে জানায়:

  • আইসি মহাবীর বেরাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

  • তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • আপাতত নৈহাটি থানার আইসি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন এসআই প্রকাশ ধাড়া

কমিশনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

ভোটের মুখে কমিশনের এই কড়া অবস্থান নতুন নয়। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এর আগেও একাধিক আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন:

  • বাসন্তী থানার আইসি: রাজনৈতিক অশান্তির জেরে সাসপেন্ড করা হয় অভিজিৎ পালকে।

  • হাঁসখালির বিডিও: প্রটোকল বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় শাস্তি পান সায়ন্তন ভট্টাচার্য।

  • খণ্ডঘোষের জয়েন্ট বিডিও: তৃণমূলের হয়ে প্রচারের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল জ্যোৎস্না খাতুনকে।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, সরকারি পদে থেকে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করলে রেহাই পাবেন না কেউই। এখন দেখার, এই সাসপেনশনের পর নৈহাটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।