বাংলায় রেকর্ড ২৪০০ কোম্পানি আধাসেনা, জেনেনিন ঠিক কী প্ল্যান করছে কমিশন?

রাজ্যে শিয়রেই নির্বাচন। আর সেই মেগা লড়াইয়ের আগে বাংলাকে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন করা হচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী। তথ্য বলছে, রাজ্যজুড়ে মোট ২,৪০০ কোম্পানির প্রায় ২,৪০,০০০ জওয়ান নামানো হয়েছে, যা গত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এটাই এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক বাহিনী মোতায়েনের নজির।

লক্ষ্য মহিলা নিরাপত্তা: নামছে ২০ হাজার নারী জওয়ান

এবারের নির্বাচনের অন্যতম বড় চমক হলো মহিলা বাহিনীর উপস্থিতি। নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করতে কমিশন প্রায় ২০০ কোম্পানিরও বেশি মহিলা আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। ২০,০০০ নারী জওয়ানের এই বিরাট উপস্থিতি এর আগে কখনও দেখা যায়নি।

কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের সময় মহিলা ভোটাররা যাতে কোনওরকম ভয় বা বাধার সম্মুখীন না হন এবং শান্তিতে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে এই বিশেষ বাহিনীর আবেদন জানানো হয়েছিল।

কেন এই অতি-সতর্কতা?

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলায় ভোটের সময় অশান্তি ও হিংসার ইতিহাস দীর্ঘ। বুথ দখল, ভোটারদের বাধা দেওয়া, বোমাবাজি কিংবা গুলি চালানোর মতো অভিযোগ প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই ওঠে। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূল রিগিং করে জয়লাভ করে। এই সমস্ত অভিযোগকে মাথায় রেখেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে কমিশন। অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট করানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।

আধাসেনার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও কমিশনের নতুন কৌশল

বিগত নির্বাচনগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও বিরোধীরা বারবার অভিযোগ তুলেছিল যে, বাহিনীর জওয়ানরা স্থানীয় পুলিশ বা শাসক দলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে তাঁরা ব্যর্থ হন বলেও দাবি তোলা হয়েছিল।

এবার কিন্তু ছবিটা আলাদা। বিরোধীদের সেই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে কমিশন নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে:

  • বাহিনীকে সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে কাজ করাবে কমিশন।

  • জওয়ানরা যাতে কোনওভাবেই স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারা প্রভাবিত না হয়, তা সুনিশ্চিত করা হচ্ছে।

  • বুথের বাইরে কড়া নজরদারির পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিয়মিত এরিয়া ডোমিনেশন চালানো হবে।

এখন দেখার, এই রেকর্ড সংখ্যক বাহিনী আর কমিশনের এই কঠোর পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাংলায় কতটা ‘শান্তিপূর্ণ’ ভোট উপহার দিতে পারে।