২০ বছর পর একলা চলো নীতি! মমতার গড়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে নামিয়ে মাস্টারস্ট্রোক কংগ্রেসের?

২০২৬-এর মহাযুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এক বড়সড় রাজনৈতিক মোচড় দিল জাতীয় কংগ্রেস। দীর্ঘ ২০ বছর পর কোনো জোটের রাস্তায় না গিয়ে, একলা লড়াইয়ের ময়দানে নামল হাত শিবির। ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে একদিকে যেমন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, শুভঙ্কর সরকার, মৌসম বেনজির নূর ও নেপাল মাহাতোরা লড়াইয়ে নেমেছেন, তেমনই তাঁদের সমর্থন জোগাতে রাজ্যে আসছেন হাইভোল্টেজ নেতারা। সোমবার সন্ধ্যায় ৪০ জন ‘স্টার প্রচারক’-এর তালিকা প্রকাশ করে কংগ্রেস বুঝিয়ে দিল, এবার তারা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ।
দিল্লির হেভিওয়েটরা আসছেন বাংলায়
নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, বাংলার ভোটপ্রচারে ঝড় তুলতে আসছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। শুধু তাই নয়, প্রচারের তালিকায় রয়েছেন হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুকু, শশী থারুর এবং সলমন খুরশিদের মতো ব্যক্তিত্ব। এক কথায়, সর্বশক্তি দিয়ে বাংলার বুথে বুথে পৌঁছাতে চাইছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
হাজরা থেকে হুঙ্কার: প্রার্থীদের অভিনব মনোনয়ন
আজ দুপুর ১২টায় কলকাতার হাজরা মোড় থেকে এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। আশুতোষ চ্যাটার্জি, রোহন মিত্র, জিশান আহমেদদের সমর্থনে পথে নামবেন পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মীর ও প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। এই সমাবেশ কেবল মনোনয়ন জমা দেওয়া নয়, বরং তৃণমূল ও বিজেপির দ্বিমুখী রাজনীতির বিরুদ্ধে এক শক্তি প্রদর্শন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শুভঙ্কর সরকারের বার্তা
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “মানুষ এখন আর বিভাজনের রাজনীতি চায় না, তাঁরা চায় উন্নয়ন। আমাদের প্রার্থীরা কেবল কংগ্রেসের নন, তাঁরা আমজনতার প্রতিনিধি। আমরা গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লড়াই লড়ছি।” মঙ্গলবারই কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করবে, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে খবর।