“প্রধান বিচারপতির ফোনও ধরেন না?”-সুপ্রিম কোর্টে চরম অপদস্থ রাজ্যের মুখ্যসচিব!

মালদার মোথাবাড়ির হিংসাত্মক ঘটনায় এবার খোদ সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন রোষের মুখে পড়লেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। সোমবার ভার্চুয়াল শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ যে ভাষায় রাজ্যের শীর্ষ আমলাকে আক্রমণ করেছে, তা প্রশাসনিক মহলে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে।
“আপনি কি ধরাছোঁয়ার বাইরে?”— প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন
শুনানি চলাকালীন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি কি প্রধান বিচারপতির ফোনও ধরেন না?” উল্লেখ্য, মালদার ঘটনার দিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বারবার ফোন করলেও মুখ্যসচিব তা ধরেননি বলে অভিযোগ ওঠে।
মুখ্যসচিব আত্মপক্ষ সমর্থনে জানান, তিনি সেই সময় বিমানে ছিলেন। কিন্তু তাঁর দেওয়া ফোন নম্বরটি কেন কাজ করছিল না, তা নিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কটাক্ষ করে বলেন, “আপনি যে নম্বর দিয়েছেন তা বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে।” মুখ্যসচিব সেটাকে ‘সুরক্ষিত নম্বর’ দাবি করলে বিচারপতির পাল্টা তোপ— “এতটাই সুরক্ষিত যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো সাধারণ ব্যক্তিও আপনাকে পায় না!”
রাজ্য রাজনীতি কি আমলাদের অন্দরমহলে?
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, “আমরা কি এটা ধরে নেব যে রাজ্য রাজনীতি এখন সচিব পর্যায় পর্যন্ত প্রবেশ করেছে?” আমলাতন্ত্রের এই একগুঁয়ে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাশাপাশি, আদালত মালদার পুলিশ সুপারের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে। হাইকোর্ট যখন এসপির সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, “আমি কী করব?” জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলাশাসক ও গোয়েন্দা বিভাগের ব্যর্থতাকেও কাঠগড়ায় তুলেছে শীর্ষ আদালত।
“ষড়যন্ত্রের শিকড় অনেক গভীরে”
মোথাবাড়ির ঘটনাকে কেবল একটি ‘আবেগতাড়িত পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানান:
-
এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা এবং এর ষড়যন্ত্রের শিকড় অনেক গভীরে।
-
অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে হবে।
-
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে মুখ্যসচিবকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ না থাকলে মালদায় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। আমলাতন্ত্রের এই ‘বিচ্ছিন্নতা’ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই রাজ্যে একের পর এক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।