সুপ্রিম কোর্টে মমতার অডিও ক্লিপ শোনাল কমিশন! নজিরবিহীন কাণ্ডে স্তম্ভিত আদালত, বাহিনী নিয়ে কড়া প্রধান বিচারপতি!

বাংলার এসআইআর (SIR) মামলা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের শুনানি চলাকালীন এক বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অডিও ক্লিপ শোনাল নির্বাচন কমিশন। ক্লিপটিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য শুনে আদালত কক্ষে উপস্থিত সকলেই স্তম্ভিত হয়ে পড়েন।
আদালত কক্ষে উত্তপ্ত সওয়াল-জবাব: কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু মুখ্যমন্ত্রীর “উত্তরপ্রদেশ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে মারবে” সংক্রান্ত মন্তব্যটি তুলে ধরলে তীব্র প্রতিবাদ করেন তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কপিল সিব্বল। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘সংবিধান ধ্বংস’ করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর অডিও চালানো হলে তাঁরাও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অডিও ক্লিপ আদালতে বাজাতে বাধ্য হবেন।
জুডিশিয়াল অফিসারের আতঙ্কিত কন্ঠস্বর: মুখ্যমন্ত্রীর ক্লিপের পাশাপাশি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনায় আক্রান্ত এক মহিলা জুডিশিয়াল অফিসারের ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপটিও আদালতে শোনান। যেখানে ওই অফিসারের আর্তনাদ এবং আতঙ্ক স্পষ্ট ধরা পড়েছে। এই দুটি ক্লিপের সত্যতা ও প্রভাব নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিতর্ক চলে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে।
অনড় প্রধান বিচারপতি: উভয় পক্ষের বাদানুবাদ শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার নিয়ে কোনো নমনীয় মনোভাব দেখাননি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন:
-
বাহিনী সরছে না: পরিস্থিতি বিচার করে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করার কোনো প্রশ্নই নেই।
-
সরাসরি হুঁশিয়ারি: প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, “রাজ্যের মেশিনারি (প্রশাসন) যদি শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে আমাদের জানাবেন। আমরা যা করার করব।”
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: নির্বাচনী আবহে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান এবং কমিশনের এই ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ পেশ করার ঘটনাটি নজিরবিহীন। এর ফলে বাংলার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মেয়াদ এবং ক্ষমতা যে আরও বাড়বে, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে গেল।