রাতভর চলল ভাঙচুর ও লুঠপাঠ! প্রধানমন্ত্রীর জনসভা থেকে ফিরতেই আক্রান্ত বিজেপি সমর্থক

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ চরমে উত্তরবঙ্গে। এবার কোচবিহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) জনসভায় যোগ দেওয়ার ‘অপরাধে’ এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভয়াবহ ভাঙচুর ও লুঠপাট চালানোর অভিযোগ উঠল। অভিযোগের তির সরাসরি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে খবর, কোচবিহারের বাসিন্দা সায়ন দে এবং তাঁর পরিবার সক্রিয়ভাবে বিজেপির সমর্থক। রবিবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় সপরিবারে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, সভা থেকে ফেরার পর গভীর রাতে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। সায়নের দাবি:
“আমরা মোদীজির সভায় গিয়েছিলাম বলেই তৃণমূলের গুন্ডারা আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বাড়ির মহিলাদের গালিগালাজ করা হয়েছে। আমরা এখন আতঙ্কে ঘরছাড়া।”
ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ: আক্রান্ত পরিবারের দাবি, দুষ্কৃতীরা শুধুমাত্র ভাঙচুরই করেনি, ঘর থেকে নগদ টাকা ও গয়নাও লুঠ করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উত্তরবঙ্গে মোদীর সভার বিশাল জনসমাগম দেখে ভয় পেয়েই তৃণমূল এই হিংসার আশ্রয় নিচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: বিজেপির জেলা সভাপতি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রে যে কেউ যে কোনো রাজনৈতিক সভায় যেতে পারেন। মোদীর সভায় যাওয়ার জন্য যদি বাড়িতে হামলা হয়, তবে বুঝতে হবে রাজ্যে আইনের শাসন বলে কিছু নেই।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি পারিবারিক বিবাদ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল হতে পারে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।
কোচবিহারে থমথমে পরিস্থিতি: নির্বাচনের আগে কোচবিহারের বিভিন্ন পকেটে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এই হামলার প্রতিবাদে আজ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই এই হামলা ২০২৬-এর নির্বাচনী ময়দানকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।