ইডেনে এখন শুধুই ‘লর্ড’ রিঙ্কু! ৩৫ নম্বর জার্সির দাপটে ফিকে দ্রে রাস-এর ম্যাজিক?

সময় চাকা ঘোরার মতো। আজ থেকে চার বছর আগেও কেকেআর ডাগআউটে তিনি ছিলেন একপ্রকার ‘অপাঙ্ক্তেয়’। একাদশে সুযোগ পাওয়ার লড়াইয়ে যাঁর নামটা আসত সবার শেষে। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই রিঙ্কু সিংহ এখন শুধু কেকেআর-এর প্রাণভোমরা নন, তিনি এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় তারকা এবং নাইট বিগ্রেডের নতুন সহ-অধিনায়ক। সোমবার পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ইডেনে নামার আগে যা দেখা গেল, তাতে স্পষ্ট— ইডেনের নতুন রাজা এখন রিঙ্কু।
৩৫ নম্বরের জয়জয়কার: এক সময় ইডেন গার্ডেন্সের বাইরে ১২ নম্বর জার্সির রমরমা ছিল আকাশছোঁয়া। আন্দ্রে রাসেল ওরফে ‘দ্রে রাস’-এর সেই ১২ নম্বর জার্সিই ছিল সমর্থকদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু সোমবারের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। অফিস ফেরত ভিড় হোক বা খুদে কেকেআর ভক্ত— ইডেনের গেটে দেদারে বিকোচ্ছে ৩৫ নম্বর জার্সি। রিঙ্কুর এই জার্সি নম্বর এখন কলকাতার ক্রিকেট প্রেমীদের আবেগের নাম।
পারফরম্যান্সই শেষ কথা: চলতি মরশুমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ওয়াংখেড়েতে ২১ বলে ৩৩ রান হোক বা সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ২৫ বলে ৩৫— রিঙ্কুর ব্যাট যখনই গর্জে উঠেছে, গ্যালারি ফেটে পড়েছে উল্লাসে। ইডেন এখন রিঙ্কুর কাছে ঘরের মাঠের মতো। সানরাইজার্স ম্যাচের মতো ভিড় এদিন শুরুতে না থাকলেও, ম্যাচ এগোতেই গ্যালারিতে শুধু রিঙ্কু-রিঙ্কু চিৎকারই শোনা যাচ্ছে।
রাসেলকে ছাপিয়ে রিঙ্কু? গত ১৩ বছর ধরে আন্দ্রে রাসেল ছিলেন কেকেআর সমর্থকদের নয়নের মণি। কিন্তু রিঙ্কুর ধারাবাহিকতা এবং ফিনিশারের ভূমিকায় তাঁর সাফল্য সমর্থকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। সহ-অধিনায়ক হওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে তাঁর প্রতি মানুষের প্রত্যাশা।
ইডেনের গ্যালারিতে এখন গ্ল্যামার আর পাওয়ার হিটিংয়ের নতুন নাম ‘লর্ড রিঙ্কু’। আজ পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট থেকে কি আরও একবার সেই বিধ্বংসী ইনিংস দেখা যাবে? আশায় বুক বাঁধছে তিলোত্তমা।