যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়ায় এয়ার ইন্ডিয়ার বড় সিদ্ধান্ত! দিল্লিতে ফিরতে জর্ডন-মিশরই এখন ভরসা প্রবাসীদের

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ল আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায়। আকাশপথে চরম ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) আগামী ৩১ মে পর্যন্ত নয়াদিল্লি থেকে তেল আভিভের সমস্ত সরাসরি উড়ান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ইজরায়েলে বসবাসকারী প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয়র দেশে ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত? বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে ইরান এবং অন্যদিকে ইজরায়েল ও আমেরিকার পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে যাত্রীবাহী বিমান চালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এয়ার ইন্ডিয়া-সহ বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো তেল আভিভমুখী উড়ান বন্ধ রাখার পথে হেঁটেছে।

প্রবাসীদের দুর্দশা ও বিকল্প পথ: সরাসরি বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ইজরায়েলে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিক ও পড়ুয়ারা।

  • পরিবহন সংকট: সরাসরি উড়ান না থাকায় প্রবাসীরা এখন বাধ্য হয়ে স্থলপথে জর্ডন অথবা মিশর সীমান্ত পার করছেন। সেখান থেকে তাঁরা দিল্লির বিমান ধরছেন। এই প্রক্রিয়াটি যেমন খরচসাপেক্ষ, তেমনই অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।

  • সীমিত পরিষেবা: ইজরায়েলি এয়ারলাইন্স যেমন ‘এল আল’ বা ‘আরকিয়া’ কিছু উড়ান চালু রাখলেও কড়া নিরাপত্তা বিধির কারণে সেখানে টিকিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় দূতাবাস: এই কঠিন সময়ে প্রবাসী ভারতীয়দের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ইজরায়েলে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। যারা জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরতে চাইছেন, তাঁদের জন্য বিকল্প রুট ম্যাপ, ভিসা সহায়তা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা নির্দেশিকা (Advisory) জারি করছে দূতাবাস।

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আকাশপথে এই অচলাবস্থা কাটবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে আগামী দু’মাস অন্তত প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য যাতায়াত এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।