কালিয়াচক অশান্তির দুই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হস্তান্তর! রাজ্য পুলিশকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের, কী আছে রিপোর্টে?

মালদহের কালিয়াচক-২ (মোথাবাড়ি) এলাকায় এসআইআর (SIR) নথি যাচাইকে কেন্দ্র করে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় আরও বিপাকে মূল অভিযুক্তরা। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই অশান্তির দুই মূল পাণ্ডা— আইনজীবী তথা মিম (MIM) নেতা মোফাক্কেরুল ইসলাম এবং মৌলানা কাদরিকে অবিলম্বে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র (NIA) হাতে তুলে দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ: দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এদিন মালদহের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আদালতের প্রধান নির্দেশগুলো হলো:

  • তদন্ত হস্তান্তর: রাজ্য পুলিশকে অবিলম্বে মামলার সমস্ত কেস ডায়েরি এবং নথিপত্র এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে।

  • মূল অভিযুক্তদের হেফাজত: মোফাক্কেরুল এবং মৌলানা কাদরিকে এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁদের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • গাফিলতির অভিযোগ: প্রধান বিচারপতি বলেন, “স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাই এনআইএ-কেই তদন্তভার নিতে হবে।”

এনআইএ-র প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য: এদিন এনআইএ সুপ্রিম কোর্টে একটি মুখবন্ধ খামে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মোট ৪৩২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • বর্তমানে ২৬ জন গ্রেফতার হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জনের সরাসরি নাশকতামূলক যোগ পাওয়া গিয়েছে।

  • ধৃতদের মধ্যে ৩২ জনের পুরনো অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।

  • প্রাথমিক তদন্তে এনআইএ-র অনুমান, বিভিন্ন এলাকায় একই সময়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়াটি একটি সুপরিকল্পিত বা ‘সমন্বিত’ প্রচেষ্টা হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের ওপর চাপ: যদিও রাজ্যের ডিজিপি এবং মুখ্যসচিবের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে মূল অভিযুক্তদের রাজ্য পুলিশই গ্রেফতার করেছে, কিন্তু আদালত তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, তদন্তের স্ট্যাটাস রিপোর্ট নিয়মিতভাবে সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতার এনআইএ কোর্টে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: গত বুধবার কালিয়াচকে এসআইআর নথি যাচাই করতে গিয়ে ৭ জন বিচারক উন্মত্ত জনতার হাতে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী দায় ঠেলেছেন নির্বাচন কমিশনের ওপর, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি রাজ্য প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ এপ্রিল। এনআইএ-র পূর্ণাঙ্গ তদন্তে এই অশান্তির নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।