OMG! বাবা-ছেলের মৃত্যু লক-আপে, ৯ পুলিশকর্মীকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তার পরিণাম যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার নজির সৃষ্টি করল তামিলনাড়ুর মাদুরাই আদালত। ২০২০ সালে করোনা লকডাউনের সময় চাঞ্চল্যকর সাতানকুলাম পুলিশি হেফাজত মৃত্যু মামলায় ৯ জন পুলিশকর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের (Death Penalty) আদেশ দিয়েছেন বিচারক। এই নৃশংস ঘটনাকে ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় ‘বিরলতম অপরাধ’ (Rarest of Rare) হিসেবে তকমা দেওয়া হয়েছে।
লকডাউনের আড়ালে সেই কালো রাত
২০২০ সালের ২০ জুন। লকডাউনের সামান্য নিয়ম ভাঙার অপরাধে ব্যবসায়ী পি জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে বেনিকসকে তুলে নিয়ে যায় সাতানকুলাম থানার পুলিশ। অভিযোগ ছিল, থানায় নিয়ে গিয়ে সারারাত ধরে তাঁদের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় বর্বরতা। ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে ক্রমাগত আঘাত এবং পৈশাচিক অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যান বাবা ও ছেলে। অঝোরে রক্তক্ষরণ হতে থাকলেও পুলিশি বাধা কাটিয়ে যখন তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
সিবিআই তদন্তে ফাঁস পুলিশের ষড়যন্ত্র
সারা দেশ এই ঘটনায় শিউরে উঠেছিল। মামলাটি সিবিআই-এর হাতে গেলে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। চার্জশিটে জানানো হয়:
-
অভিযুক্ত পুলিশকর্মীরা ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন।
-
ইনস্পেক্টর এস শ্রীধর এবং সাব-ইনস্পেক্টর রঘু গণেশ ও বালকৃষ্ণণের নেতৃত্বে এই পৈশাচিক নির্যাতন চলে।
-
অপরাধ ঢাকতে সমস্ত প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও করা হয়েছিল।
ঐতিহাসিক রায় ও বিচার
সোমবার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক জি মুথুকুমারন এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত ১০ পুলিশকর্মীর মধ্যে একজন বিচার চলাকালীন করোনায় মারা গেলেও, বাকি ৯ জনকেই খুনের দায়ে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বিচারক। দীর্ঘ চার বছরের কঠিন লড়াই শেষে জয়রাজ ও বেনিকসের পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তামিলনাড়ু তথা গোটা দেশ। এই রায় খাকি উর্দিধারীদের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এক কঠোর বার্তা হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।