অ্যাডজুডিকেশনে থাকা ভোটারদের জন্য ‘ট্রাইব্যুনাল’! এবার সর্বোচ্চ আদালতে শুরু নতুন বিচার

নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ গিয়েছে বা তালিকায় ওঠেনি, তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে:

  • তিন বিচারপতির কমিটি: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে তিনজন প্রাক্তন প্রবীণতম বিচারপতি বা বিচারকের একটি টিম গঠন করতে। এই কমিটিই ঠিক করে দেবে সারা রাজ্যের ১৯টি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি (Uniform Procedure) কী হবে।

  • অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল: এই ট্রাইব্যুনালগুলোর নেতৃত্বে থাকবেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং প্রবীণ বিচারকরা। যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা কেন বাদ পড়লেন তার পূর্ণাঙ্গ কারণসহ ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারবেন।

  • দ্রুত নিষ্পত্তির ডেডলাইন: আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই কমিটি আগামীকালের মধ্যেই নিয়মাবলি জানিয়ে দেবে, যাতে আপিলের শুনানি দ্রুত শুরু করা যায়।

  • সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেও যারা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন, তাঁদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি (অতিরিক্ত) ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ, ভোটের দিন পর্যন্ত নাম তোলার সুযোগ জিইয়ে রাখা হলো।

কেন এই কড়া অবস্থান?

শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, “ভোটাধিকার কোনোভাবে ধুয়ে মুছে ফেলা যায় না।” সম্প্রতি মালদহের কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও এবং হেনস্তার ঘটনায় আদালত অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তাই ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রভাব বা গোলমালের কবলে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই ‘জুডিশিয়াল হস্তক্ষেপ’।

কীভাবে হবে ভোটার হওয়ার বিচার?

১. আপনার নাম যদি বাদ পড়ে থাকে, তবে প্রথমে অ্যাডজুডিকেটিং অফিসারের দেওয়া কারণটি সংগ্রহ করতে হবে। ২. এরপর নবগঠিত ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে হবে। ৩. ট্রাইব্যুনাল সমস্ত নথিপত্র এবং পূর্ববর্তী রিজেকশন স্লিপ খতিয়ে দেখে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। ৪. ট্রাইব্যুনাল সবুজ সংকেত দিলে নির্বাচন কমিশনকে বাধ্যতামূলভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।