হরমুজ প্রণালী না খুললে ধ্বংস হবে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু! ট্রাম্পের ‘ডেডলাইন’ ঘিরে রণহুঙ্কার

৫ এপ্রিল, ২০২৬ (রবিবার) ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত কড়া এবং বিস্ফোরক ভাষায় ইরানকে সতর্ক করেন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের পথ সচল করতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মূল পয়েন্টগুলো:
-
মঙ্গলবার ৮:০০ টা (ইস্টার্ন টাইম) শেষ সময়: ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালী সব ধরণের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
-
‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ব্রিজ ডে’: যদি ইরান দাবি না মানে, তবে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে বুধবার হবে ইরানের জন্য “পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ব্রিজ ডে”। অর্থাৎ, মার্কিন বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বড় সেতুগুলোতে সরাসরি হামলা চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেবে।
-
নরকের তুলনা: ট্রাম্পের ভাষায়, “ঐ জাহান্নামের পথ (Strait) খোলো, নতুবা তোমাদের নরকে বাস করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, আমেরিকা হামলা শুরু করলে এমন ধ্বংসলীলা দেখা যাবে যা আগে কখনও হয়নি।
কেন এই উত্তেজনা?
সম্প্রতি ইরানের হাতে একজন মার্কিন বৈমানিক (Aviator) বন্দি হওয়া এবং ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তুঙ্গে। ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই রুট খুলবে না। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করছে।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:
-
ইরান: ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘যুদ্ধাপরাধের পরিকল্পনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। তারা পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি এবং বন্ধু দেশগুলোর পরিকাঠামোও রেহাই পাবে না।
-
বিশ্ব বাজার: এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: মঙ্গলবার রাতের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আমেরিকা কি সত্যিই বড় কোনো সামরিক অভিযানে যাবে? নাকি শেষ মুহূর্তে কূটনীতির মাধ্যমে কোনো রফাসূত্র বেরোবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।